হান্টা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া যাত্রীবাহী ডাচ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসকে নোঙর করতে দেওয়ার ব্যাপারে স্প্যানিশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফের্নান্দো ক্লাভিহো।
তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি এটিকে (নৌকা) ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে ঢুকতে দিতে পারি না। এই সিদ্ধান্ত কোনো প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি এবং আমাদের যথেষ্ট তথ্যও দেওয়া হয়নি।”
ক্লাভিহো বর্তমানে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে রয়েছেন এবং সেখান থেকেই তিনি জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে মাদ্রিদে জরুরি বৈঠক করতে চান।
উল্লেখ্য, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জাহাজটির ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
হান্টাভাইরাস হলো ইঁদুরজাতীয় প্রাণীবাহিত এক ধরনের ভাইরাস, যা প্রধানত ইঁদুরের শুকনো মল থেকে বাতাসে ভেসে থাকা কণার মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর মতে, সাধারণত ইঁদুরের মূত্র, মল বা লালা থেকে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে সংক্রমণ ঘটে।
প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষের হান্টা ভাইরাস সংক্রান্ত জটিলতায় ভোগার তথ্য পাওয়া যায়, যার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসে ইউরোপ ও এশিয়া থেকে। তবে হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণের অর্ধেকেরও বেশি ঘটে চীনে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাত জনের হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি নিশ্চিত এবং বাকিগুলো সন্দেহভাজন।
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের কেপ ভার্দের কাছে আটকে পড়া জাহাজটিতে থাকা ২৩টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী রয়েছেন।
বিশ্বের দক্ষিণতম শহর আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে এমভি হোনডিয়াস পহেলা এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিল। আর্জেন্টিনা থেকে ব্রিটিশ শাসিত দক্ষিণ জর্জিয়া অঞ্চলে যাওয়ার কথা ছিল এটির।
জাহাজটি এমন এক সমুদ্রযাত্রায় ছিল যেখানে যাত্রীদের আটলান্টিকের সবচেয়ে দুর্গম ও অদেখা কিছু ভূখণ্ড অতিক্রম করে জীবনের সেরা এক ভ্রমণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
গত ১১ এপ্রিল একজন ডাচ ব্যক্তি জাহাজে মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ অজানা ছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ পর তার স্ত্রীর সাথে সেন্ট হেলেনায় জাহাজ থেকে তার মরদেহ নামানো হয়।
ওই নারীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কর্তৃপক্ষ জানায় যে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিশ্চিত করেছে যে ৬৯ বছর বয়সী ওই নারী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।








