আইওয়া অঙ্গরাজ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোশমেজাজে কথা বললেও কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কঠোর ও উদ্বেগজনক মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার কিউবা স্বল্পমেয়াদি ভবিষ্যতেই ধ্বংসের মুখে পড়বে এবং দেশটি ভেঙে পড়ার পথে। কিউবার পতন নিয়ে ট্রাম্পের এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী নতুন কিছু নয়। ১৯৫৯ সালের কিউবান বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে দেশটিকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করে আসছে।
কিউবান বিপ্লবের মাধ্যমে মার্কিন সমর্থিত স্বৈরশাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তার পতন ঘটার পর থেকেই কিউবাকে শাস্তি দেওয়ার নীতিতে এগোয় ওয়াশিংটন। প্রায় ৬৭ বছর ধরে চলমান মার্কিন অবরোধ কিউবার অর্থনীতি ও জনজীবনে গভীর সংকট তৈরি করেছে। তবে এবার পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর অপহরণ এবং এর পরপরই ভেনিজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার পতনের ‘প্রমাণ’ হিসেবে তুলে ধরছে। ট্রাম্প নিজেই দাবি করেন, কিউবার অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত দীর্ঘদিন ভেনিজুয়েলার ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা এখন আর অব্যাহত নেই।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই আশা করা হয়েছিল, কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মেক্সিকোসহ লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ কেবল আনুষ্ঠানিক সমর্থনের বক্তব্য দিয়েই দায় সেরেছে। মার্কিন চাপের মুখে মেক্সিকো কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ করলেও একে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বলে ব্যাখ্যা করছে এবং একই সঙ্গে কিউবার পাশে থাকার কথাও বলছে।
দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবায় খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে দেশটি সফরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কফি ও দুধের মতো মৌলিক পণ্যও তখন দুষ্প্রাপ্য ছিল। একসময়ের বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক চিকিৎসা সহায়তার জন্য পরিচিত কিউবা আজ অত্যাবশ্যক ওষুধের সংকটে ভুগছে।
এই সংকটের মধ্যেও কিউবান সাধারণ মানুষের মানবিকতা অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে। অবরোধে জর্জরিত বাস্তবতার মাঝেও মানুষের সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মানসিকতা আজও অটুট। এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার দুর্বলতার বিপরীতে কিউবান সমাজের শক্তিশালী মানবিক দিকটি তুলে ধরে।
আজ কিউবার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম অত্যন্ত জটিল ও বহুমাত্রিক। একদিকে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ, অন্যদিকে বৈশ্বিক রাজনীতির নীরবতা—সব মিলিয়ে কিউবা এক কঠিন সময় পার করছে। যদি কিউবা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং সেখানে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা কেবল একটি দেশের পরাজয় হবে না বরং এটি প্রমাণ করবে যে সাম্রাজ্যবাদী চাপের মুখে পৃথিবীর কোনো দেশই নিরাপদ নয়।







