পাহাড়ে বাঙালি-অবাঙালি সবার সমান নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান
জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)

ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি, বাঙালি ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম। দলটির মতে, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা মানে শুধু গোলাগুলি বন্ধ করা নয়; বরং মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিশ্চিত করা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘পাহাড়ের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে’ জেডিপি আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় জেডিপির নেতারা এসব কথা বলেন।
সভায় আব্দুল আলিম বলেন, যে-ই অবৈধ অস্ত্র ধারণ করুক, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করুক কিংবা সশস্ত্র সহিংসতায় জড়িত থাকুক, তার পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের অধিকার ও মর্যাদাও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
তিনি সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি জীবন রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে সকল মানুষের জানমাল, মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নামে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে মানবাধিকার কিংবা জাতিগত পরিচয়ের দোহাই দিয়ে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যেন বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আব্দুল আলিম আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার বন্ধের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, অপহরণ, সশস্ত্র আধিপত্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, রাজনৈতিক অবিশ্বাস, অধিকারসংক্রান্ত সংকট ও উন্নয়নবৈষম্যের সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।
জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ বলেন, পাহাড়ি বাঙালি ও অবাঙালি- সব জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবন, মর্যাদা ও অধিকার সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, রাজনৈতিক অবিশ্বাস ও উন্নয়নবৈষম্যের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোরও সমাধান করতে প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলির বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে মতভেদ থাকায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানান জেডিপির নেতারা। তাদের মতে, কারা গুলি চালিয়েছে, কারা সহিংসতায় উসকানি দিয়েছে, কারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন করেছে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন কি না, তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেডিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফুয়াদ জামান, যুগ্ম সদস্যসচিব মাহতাব হোসেন সাব্বির, মুহিব্বুল্লাহ, শেহনাজ রশিদ খান, আবদুল হামিদ, আরিফুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।



