চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

উপাচার্যের দূরদর্শী নেতৃত্বে গতি ফিরে পাচ্ছে বিএসএমএমইউ

Nagod
Bkash July

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের দূরদর্শী নেতৃত্বে দিন-দিন গতি ফিরে পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬৫ সালে যাত্রা শুরু আইপিজিএমআর যা ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। শুরুতে আইপিজিএমআর রেফারেল হাসপাতাল হিসাবে পরিচিত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হওয়ার পর থেকে মানুষের আশা আকাঙ্খা বাড়তে থাকে হাসপাতালটি ঘিরে।

Sarkas

বর্হিঃবিভাগ সেবা প্রদানের পাশাপাশি যত সিট তত  রোগী ভর্তি নীতিতে চলতে থাকা হাসপাতালটিতে উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মানুষের বহুল প্রত্যাশিত জরুরি বিভাগ চালু করে অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ। এখন মানুষ বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এসেই প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। একটি আধুনিক জরুরি বিভাগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ।

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ সারিতে থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ। যখনই করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে তখন সাথে সাথে চালু করেছেন ফিল্ড হাসপাতাল। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সদা প্রস্তুত ছিল বিধায় এদেশে করোনায় বিনা চিকিৎসায় কাউকে মরতে হয় নাই।

একটি মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের পাশাপাশি কর্মকর্তা, নার্স, কর্মচারীরাও কাজ করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে গতিশীল করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি অন্যান্য নন মেডিকেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেয়ার পরপরই দীর্ঘ দিন ধরে কর্মরত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক প্রায় ৯ শতাধিক ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীর চাকরী স্থায়ী করেন। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপকসহ সকল ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাপ্য পদন্নোতি পক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। ইতোমধ্যে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ৩য় শ্রেনী, ৪র্থ শ্রেণী এবং নার্স এসোসিয়েশন নির্বাচন সম্পূর্ণ করেছেন। যার মাধ্যমে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কর্মচারী এবং নার্সরা তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন। তাদেরকে মাঝে এসেছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। শীঘ্রই শিক্ষক সমিতি এবং অফিসার সমিতির নির্বাচনের অঙ্গীকার করেছেন।

দায়িত্ব নেয়ার পরপরই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ দাবি হেলথ কার্ড প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর আয়োজন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তরীণ গবেষণা ব্যয় বৃদ্ধি করেছেন। সরকার থেকে প্রাপ্ত গবেষণা ব্যয় বৃদ্ধির কার্যকর ভূমিকা নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গবেষণার ফলাফল প্রকাশের সময় উপস্থিত থেকে গবেষকদের উৎসাহ উদ্দীপনা প্রদানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন এবং সকল প্রকার সহযোগিতা করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ওপিডি ১ এবং ওপিডি ২ এর উপর ৬ষ্ঠ থেকে ১১ তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। শীঘ্রই যার সুফল ভোগ করবে রুগীরা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একজন উপাচার্য যখন ২৪/৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে সময় দেন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারে না। প্রায় প্রতিদিন সকাল ৮ থেকে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত সব ধরনের মানুষের জন্য উপাচার্য মহোদয়ের দরজা খোলা থাকে। উনার সার্বিক্ষণিক ধ্যান জ্ঞান থাকে কিভাবে রোগীকে সেবা দিবেন এবং কিভাবে রোগীর সেবা বৃদ্ধি করবেন, কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন করবেন। দক্ষিণ কুরিয়ার সহায়তায় সর্বাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ৭৫০ সিট বিশিষ্ট সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই যার উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্ব সুপার স্পেশালাইজাইড হাসপাতালটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবায় এক মাইলফলক হিসেবে রূপ লাভ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও গত ডিসেম্বর মাসে উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স সার্জন অব গ্লাসগো থেকে এফ.আর.সি.এস ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকে এবং রোগীরা যেন আধুনিক চিকিৎসা সেবা পায় সে হিসেবে উপাচার্য মহোদয়ের দীর্ঘ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পদত্ত বেতার ভবনের জায়গায় সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। উপাচার্যের আরেকটি বড় স্বপ্ন হল ইন্সটিটিউশনাল প্র্যাকটিস চালু করা। সে লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ইন্সিটিটিউশনাল প্র্যাকটিস চালু হলে বাংলাদেশর চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। খুলে যাবে বাংলাদেশের রোগীদের জন্য নতুন দোয়ার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি অধ্যাপক এম এ কাদেরীর সময় প্রথমে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন), (ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্র্রার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ। পরে তিনি পরিচালক (হাসপাতাল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এছাড়াও  পাবলিক হেলথ ফ্যাকাল্টির ডিনের দায়িত্বও পালন করেন।

তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ সিন্ডিকেট সদস্য ও একাডেমিক কাউন্সিলের দায়িত্ব পালন করেন।  বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

অধ্যাপক শারফুদ্দিন ২০১৫-২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে তিনি বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

এই কর্মপ্রাণ মানুষটি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করছি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

BSH
Bellow Post-Green View