কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়, গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিতে কলম্বিয়ার সামনে পড়েছে উরুগুয়ে। টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে চলতি আসরে অপরাজিত থাকা উরুগুয়ে।
লাস ভেগাসের অ্যালেজিয়েন্ট স্টেডিয়ামে রোববার সকালে সেমির লক্ষ্যে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-উরুগুয়ে। আগের দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় কোয়ার্টার ফাইনালে ছিলেন না ভিনিসিয়াস জুনিয়র। প্রথমবার সেলেসাও জাতীয় দলের একাদশে সুযোগ পান ১৭ বর্ষী এন্ড্রিক ফেলিপে।
ম্যাচে ৬০ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের। ৭টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় তারা। অপরদিকে, উরুগুয়ে ১২টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারে সবে একটি।
২৮ মিনিটে সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। ডি বক্সের ভেতর এন্ড্রিক বল বাড়িয়ে দেন রাফিনহাকে, বার্সা ফরোয়ার্ড বলের কাছে যাওয়ার আগেই বিপদমুক্ত করে উরুগুয়ে। মিনিট কয়েক পর নুনেজের হেড যায় ব্রাজিলের পোস্টের কয়েক হাত উপর দিয়ে। তখন ব্রাজিল আবারও পাল্টা আক্রমণে গেলেও জালের দেখা পেতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচজুড়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, রোনাল্ড আরাউজোর সঙ্গে রাফিনহার বাকবিতণ্ডা, সেখানে আবার সতীর্থদের জড়িয়ে পড়া, এসবকিছু থাকলেও শুধু জালের দেখা পায়নি দুদলের কেউই।
প্রথমার্ধের গোলশূন্য অবস্থা কাটাতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণে ওঠে মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে। নুনেজ-ফ্রেডরিক ভালভার্দেরা বেশ কয়েকটি শট নিয়ে গোলবারের অনেক উপর দিয়ে মেরে বসেন। ব্রাজিল সেভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না।
৭৪ মিনিটে রদ্রিগোকে কড়া ট্যাকল করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার নাহিতাস নান্দেজ। পরে ভিএআর দেখে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান। বাকিটা সময় ১০ জনের দলে পরিণত হয় উরুগুয়ে। তবুও সুযোগ তৈরি করে গোলের কাছাকাছিও যেতে পারছিল না ব্রাজিল।
অন্যদিকে, সেভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ৭৮ মিনিটে তুলে নেয়া হয় উরুগুয়ে তারকা ডারউইন নুনেজকে। ১০ জন নিয়ে আক্রমণ সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বলের দলখলে এগিয়ে থাকলেও বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ডি-বক্স পর্যন্ত গিয়ে বল হারাচ্ছিলেন রদ্রিগো, এন্ড্রিক। ৮৫ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে শট নেন এন্ড্রিক, অতটা জোর না থাকায় উরুগুয়ে গোলরক্ষক সহজে সেটি নিয়ন্ত্রণে নেন। গোলশূন্য ড্র হলে শেষপর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে উরুগুয়ের সফল শট নেন ভালভার্দে, বেনটানকুর, আরাসকেটা ও উগার্তে; হিমেনেজের শট ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন। আর ব্রাজিলের সফল কিক নেন পেরেইরা ও মার্তিনেল্লি। মিলিতাওয়ের শট ঠেকান উরুগুয়ে গোলরক্ষক সার্জিও, লুইজের শট লাগে পোস্টে।







