কক্সবাজারে অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে তাদের দারিদ্র্য জয়ে সহায়তা করতে ব্র্যাক নিয়ে এসেছে ‘আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম’ (ইউপিজি)।
আজ ২০ জুন মঙ্গলবার কক্সবাজারে ইউপিজি পরিচালিত এই কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময় উপলক্ষে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজিত হয়েছে। কক্সবাজার জেলার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক ছিল ব্র্যাক, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি), ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার(ইউএনএইচসিআর)।
টেকনাফ ও উখিয়ায় বসবাসরত অতিদরিদ্র নারী ও তাদের পরিবারের ভঙ্গুর অবস্থা ও প্রয়োজন নিবিড়ভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে তাদেরকে দারিদ্র্যজয়ে সহায়তা করছে বিশ্বব্যাপী পরিচিত ব্র্যাকের ‘আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম’ (ইউপিজি)। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী অতিদরিদ্র্য মানুষগুলোকে তাদের পণ্য বিক্রয়ে স্থানীয় বাজারের সাথে সংযোগ ঘটানোর লক্ষ্যে একটি পাইলট কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার দেশটির রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নয় লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ কক্সবাজারে টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেন। কক্সবাজার জেলা আগে থেকেই দারিদ্র্যপীড়িত। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয় গ্রহণের ফলে স্থানীয় অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠেছে। তাই তাদের সংকট নিরসনে ইউপিজি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে ব্র্যাক।
ব্র্যাকের আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রামের পরিচালক পলাশ দাশ বলেন, ব্র্যাক ও ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে কক্সবাজারে বছরব্যাপী একটি ‘মার্কেট লিংকেজ’ পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করেছে। বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দরকাষাকষির সুযোগ বাড়ানো এবং পণ্যের বাজারজাতকরণের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এই পাইলট প্রকল্প ব্র্যাকের আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রামের অধীনে পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেন অতিদরিদ্র পরিবারের ২,০০০ সদস্য।
সদস্যদের উৎপাদিত সম্পদের পরিমাণ খুবই কম হওয়ায় দলীয়ভাবে কাঁচামাল কেনা এবং পণ্য বিক্রিতে সদস্যরা বেশি লাভবান হয়েছেন। পাইলটটির আওতায় সদস্যদের বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নানা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাজারের কাঁচামাল বিক্রেতা ও পণ্যের ক্রেতাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি সেবাসমূহে তাদের প্রবেশাধিকার বেড়েছে।
উল্লেখ্য, অতিদারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ব্র্যাকের ইউপিজি মডেলটি ২০০২ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে। এখন পর্যন্ত এই প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থেকে ৪৮ জেলায় ২২ লাখের বেশি পরিবার টেকসইভাবে অতিদারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নাগরায়ন, দূর্যোগ এবং কোভিডের মতো অতিদরিদ্রদের মহামারী আরও খারাপ অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এসব বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম গ্রাম ও শহর এলাকায় বসবাসরত অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীগুলোকে দারিদ্র্যমুক্তি ও টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য কার্যক্রম প্রসারিত করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল থেকে ব্র্যাক কক্সবাজারে ইউপিজি প্রোগ্রাম কার্যক্রম আরম্ভ করে।
পরবর্তীকালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের পর জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর (হোস্ট কমিউনিটি) অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যজয়ে বিশেষভাবে সহায়তা করে আসছে ব্র্যাকের ইউপিজি প্রোগ্রাম। বাংলাদেশে উদ্ভাবিত দারিদ্র্য বিমোচনের ইউপিজি মডেল আজ বিশ্বের সম্পদ। এই প্রোগ্রামের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৫০টি দেশে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা অতিদরিদ্র মানুষকে ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়তা করছে, যা শুধু ব্র্যাক নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্যই গর্বের।







