বাংলাদেশের শিল্পখাতকে আরও টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ইএসজি (এনভায়রনমেন্টাল, সোশাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স) দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও সুইসকন্ট্যাক্ট।
মঙ্গলবার ৫ মে এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ‘স্ট্রেনথেনিং লোকাল ক্যাপাসিটি ফর সাসটেইনেবল ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে।
বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পণ্যের গুণগত মানের পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ার দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড ও বিনিয়োগকারীরা এখন কার্বন নিঃসরণ, শ্রমমান, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইএসজি এখন স্থানীয় শিল্পের জন্য বাজারে প্রবেশ, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইএসজি চাহিদা মূল্যায়ন জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। জরিপটি পরিচালনা করে ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনোমিকস অ্যান্ড সোশাল সায়েন্সেস, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ব্যাংকিং ও উৎপাদন খাতের ১০৬ জন পেশাজীবীর ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, পেশাজীবীদের মধ্যে ইএসজি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের প্রতি উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি ইএসজি রিপোর্টিং, কার্বন হিসাবায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থায়নের মতো ক্ষেত্রে দক্ষতার ঘাটতিও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইএসজি বিষয়ক ৬০ ঘণ্টার পেশাগত সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্নকারী প্রথম ব্যাচের ২৪ জনকে সনদ প্রদান করা হয়। এই কোর্সটি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি প্রণয়ন করেছে এবং সুইসকন্ট্যাক্টের ‘প্রগেস’ উদ্যোগের সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের দূতাবাসও সহযোগিতা করছে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইএসজি শিক্ষাকে আরও এগিয়ে নিতে এবং অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. শহিদুর রহমান ও প্রফেসর ড. সৈয়দ এ. মামুন, এবি লিনডেক্সের গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটি ম্যানেজার কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সুইডেন দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ইকরামুল এইচ সোহেল এবং প্রগ্রেস প্রকল্পের টিম লিডার ফারজানা আমিন।
আয়োজকরা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় প্রেক্ষাপটে ইএসজি বিষয়ে জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশকে একটি সবুজ ও টেকসই শিল্প ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।








