বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এবারের আসরে পর্দা নেমেছে শুক্রবার। তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশালের টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নের আসরে ব্যাটাররা প্রচুর রান পেয়েছেন। চট্টগ্রাম, সিলেট বা ঢাকায়- যেখানেই খেলা, রানবন্যা ছিল। দেশি ব্যাটাররা রান তুলেছেন দেদার। সেরা দশ ব্যাটারের ৯ জনই টাইগার। রানে দশের মধ্যে একমাত্র বিদেশি ইংল্যান্ডের গ্রাহাম ক্লার্ক। আসরে সেরা ব্যাটার কারা দেখে নেয়া যাক।
আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক খুলনা টাইগার্সের নাঈম শেখ। বাঁহাতি ব্যাটার ১৪ ম্যাচ খেলেছেন, দুই ম্যাচে অপরাজিত থেকে মোট করেছেন ৫১১ রান। সর্বোচ্চ ইনিংসটি অপরাজিত ১১১ রানের। মোট ৩৫৫ বল মোকাবেলা করা ব্যাটারের স্ট্রাইকরেট ১৪৩.৯৪, গড় ৪২.৫৮। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিনটি ফিফটি করেছেন। ৩০টি ছক্কার পাশাপাশি ৪৬টি বাউন্ডারি মেরেছেন নাঈম।
সেরা দশের দুইয়ে জাতীয় দলের বাঁহাতি ওপেনার ঢাকা ক্যাপিটালসের তানজিদ হাসান তামিম। ১২ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৪৮৫, গড় ৪৪.০৯ এবং স্ট্রাইকরেট ১৪১.৩৯। জুনিয়র তামিমের সেঞ্চুরির সংখ্যা একটি এবং ফিফটি করেছেন চারটি। ৩৪৩ বল মোকাবেলা করে তামিম আসরের সর্বোচ্চ ৩৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এবং বাউন্ডারি মেরেছেন ২৪টি। অপরাজিত ছিলেন একটি ইনিংসে।
তিনে সেরার একমাত্র বিদেশি ইংল্যান্ডের গ্রাহাম ক্লার্ক। চিটাগং কিংসের হয়ে ১৪ ইনিংস খেলেছেন, করেছেন ৪৩১ রান। গড় ৩০.৭৮ এবং স্ট্রাইকরেট ১৫৩.৩৮। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি একটি ফিফটি করেছেন। ৩৩টি চারের পাশাপাশি ২৩টি ছক্কা মেরেছেন।
চারে চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ১২ ম্যাচে তার ব্যাটে এসেছে ৪১৩ রান। তামিমের সর্বোচ্চ ইনিংসটি অপরাজিত ৮৬, স্ট্রাইকরেট ১২৯.০৬ ও গড় ৩৭.৫৪। ৪টি ফিফটি করা বরিশাল অধিনায়ক ৫১টি চার এবং ১১টি ছক্কা মেরেছেন।
পাঁচে দুর্বার রাজশাহীর এনামুল হক বিজয়। ডানহাতি ব্যাটার ৩৯২ রান করেছেন। সেঞ্চুরি রয়েছে একটি, সর্বোচ্চ অপরাজিত ১০০। ৩০০ বল মোকাবেলা করা বিজয়ের স্ট্রাইকরেট ১৩০.৬৬ এবং গড় ৩৯.২০। ফিফটি দুটি এবং ১৬টি ছক্কার পাশাপাশি ৩৮টি বাউন্ডারি মেরেছেন।
ছয়ে টাইগারদের টেস্টের নিয়মিত ওপেনার জাকির হাসান। সিলেট স্ট্রাইকার্সে খেলা জাকির ১২ ম্যাচ খেলে ৩৮৯ রান করেছেন। গড় ৩৫.৩৬। স্ট্রাইকরেট ১৪০.৪৩ এবং সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৭৫ রানের। তিনটি ফিফটির পাশাপাশি ৩৬টি চার এবং ২০টি ছক্কা মেরেছেন।
লিটন দাস আছেন সাতে, রান সংখ্যা ৩৬৮। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে বাদ পড়ার পরের ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলেছিলেন অপরাজিত ১২৫ রানের ইনিংস। তার ফিফটি আছে দুটি, ৩৬টি চারের পাশাপাশি ১৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ২৫৭ বল মোকাবেলা করা লিটনের স্ট্রাইকরেট ১৪৩.১৯।
আটে খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। রানসংখ্যা ৩৫৫ এবং সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৭৪ রানের। নয়ে চিটাগং কিংসের বাঁহাতি ব্যাটার শামীম হোসেন পাটোয়ারী। খেলেছেন ১৫ ম্যাচ, করেছেন ৩৫২ রান। সর্বোচ্চ ৭৯ করা শামীমের গড় ২৭.০৭ এবং স্ট্রাইকরেট ১৫৯.২৭।
সেরা দশের শেষ জায়গাটিতে আছেন চিটাগং কিংসের পারভেজ হোসেন ইমন। ১৩ ম্যাচ খেলে ৩৩৮ রান করেছেন ২২ বর্ষী তরুণ। অপরাজিত থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ রানের ইনিংসটি টুর্নামেটে সেরা তার। ১৩০ স্ট্রাইকরেট ও ২৮.১৬ গড়ে ব্যাট চালিয়েছেন বাঁহাতি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।








