গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেনা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ৩ জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। টানা ছয় ঘণ্টা ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে তাদেরকে গেটপাড়া কবরস্থানে ফের দাফন করা হয়েছে।
এরআগে, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরের দিকে রমজান কাজী ও ইমন তালুকদারের মরদেহ মার্কাস মসজিদ কবরস্থান থেকে ও টুঙ্গিপাড়া পারিবারিক কবরস্থান থেকে সোহেলের মরদেহ থেকে উত্তোলন করা হয়।
গত ১৬ জুলাই এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেনা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয় চারজন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেড়িকেলে নিয়ে যাওয়ার ২দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রমজান মুন্সি নামে আরেকজন। এ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়।
নিহত ৫ জন হলো, দিপ্ত সাহা, ইমন তালুকদার, সোহেল সিকদার, রমজান কাজী ও রমজান মুন্সি। এদের সকলের বাড়ি গোপালগঞ্জে। এরমধ্যে রমজান কাজী পেশায় টাইস মিস্ত্রী ও রমজান মুন্সি পেশায় রিকশাচালক।
ঘটনার দিন গুলিতে নিহত ৫ জনের মধ্যে রমজান মুন্সির মরদেহ ঢাকায় ময়নাতদন্ত করা হলেও বাকি চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন ও সৎকার করা হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর পৌরশ্মশানে দিপ্ত সাহার সৎকার করা হয়।
ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ দাফন ও সৎকারের বিষয়টি বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নজরে আসে। এরপর ৫দিন পর ২১ জুলাই সোমবার দুপুরের দিকে আদালতের নির্দশে ৩ জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।
এদিন টানা ছয় ঘণ্টা ময়নাতদন্ত শেষে রাত সোয়া ৯টার দিকে গেটপাড়া কবরস্থানে তাদেরকে ফের দাফন করা হয়। এতোবড় ভোগান্তির জন্য আড়াইশবেড় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জিবিতোসকে দায়ী করে নিহতের স্বজনেরা জানান, আমরা গরিব মানুষ, আমরা এতকিছু বুঝি না। ডাক্তার জিবিতোস বাবু আমাদের কইছে মরদেহ নিয়ে এখনই হাসপাতাল থেকে চলে যাও। অন্যথায় তোমাদের উপরও হামলা হবে। এ কথা বলার পর আমরা মরদেহ নিয়ে চলে আসি, পরে দাফন করি। ডাক্তার বাবু আমাদের কোনো সহযোগিতা করেননি।
মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রন্টি পোদ্দার ও টুঙ্গিপাড়া সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মারুফ দন্তোগী।








