টানা তিন বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না ইতালির, তাদের সুযোগ করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলে সেটিও নাকচ করেছে আজ্জুরিরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধের জেরে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে রেখেছে ইরানিরা, তাদের সিদ্ধান্ত আপাতত অনিশ্চিত যাত্রায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির জায়গা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দেয়া হলে তা হবে ইউরোপের দেশটির জন্য লজ্জাজনক, এমন মনে করছে ইতালি।
ইতালির এক ক্রীড়া কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দেয়ার পর চারবারের চ্যাম্পিয়নরা আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী নয় জানিয়েছে। তবে ইরান এখনও বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সত্ত্বেও দলটি যুক্তরাষ্ট্রে খেলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। ফিফা জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসের কাছে ও সিয়াটলে তাদের গ্রুপপর্বের খেলাগুলো পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।
মার্কিন বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি গণমাধ্যমে জানাচ্ছেন, ইতালির অংশগ্রহণের ধারণাটি ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে উত্থাপন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার ফোন সাক্ষাৎকারে জাম্পোলি বলেছেন, ‘আমার অনুরোধটি কোন রাজনৈতিক অনুরোধ নয়। ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর কাছে করা এই অনুরোধটি ছিল একটি বিকল্প পরিকল্পনা, যদি শেষ মুহূর্তে ইরান ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে না পারে সেজন্যই।’
‘আমি একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার অনুরোধটি ছিল ইতালীয় জনগণ এবং আমেরিকান-ইতালীয় জনগণের জন্য। চারটি শিরোপা জেতায় বিশ্বকাপে ইতালি জাতীয় দলের অংশগ্রহণ যৌক্তিক হবে।’
তবে ইতালীয় ক্রীড়া কর্মকর্তারা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বলেছেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ইতালির পুনরায় যোগ্যতা অর্জন করা প্রথমত, সম্ভব নয় এবং দ্বিতীয়ত, যথাযথও নয়। জানি না কোনটা আগে আসে, কিন্তু যোগ্যতা অর্জন মাঠেই হয়।’
ইতালির সকল ক্রীড়া কার্যক্রমের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা ইতালীয় অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুসিয়ানো বোনফিগলিও ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ধারণাটি নাকচ করে বলেছেন, ‘আমি অপমানিত বোধ করব। বিশ্বকাপে যাওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।’
ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তি এই ধারণাটিকে ‘লজ্জাজনক’ অভিহিত করেছেন।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘ইরানকে নিয়ে সমস্যাটা তাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে নয়। সমস্যাটা হবে অন্যকিছু লোক, যাদের তারা সঙ্গে আনতে চায়। ইরানের ফুটবল দল সাংবাদিক ও প্রশিক্ষকের ছদ্মবেশে জঙ্গি গোষ্ঠীর অনুগত লোকদের নিয়ে আসতে পারে। আমরা তাদের ঢুকতে দিতে পারব না, কিন্তু খেলোয়াড়দের পারব।’
‘এমন জল্পনা রয়েছে যে ইরান হয়তো না আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেক্ষেত্রে ইতালি তাদের জায়গা পূরণ করতে পারে। যদি তারা নিজেদের ইচ্ছায় না আসার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নিজেদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেবে।’
বিশ্বকাপের বাকি এখনও ৪৮ দিন। দেখার বিষয় ইরান কী সিদ্ধান্ত নেয় শেষঅবধি। যদি তারা বিশ্বকাপ খেলে তাহলে, জুনের ১৬ তারিখ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। ২২ তারিখ বেলজিয়াম এবং ২৭ তারিখ মিশরের বিপক্ষে হবে তাদের বাকি দুটি গ্রুপপর্বের ম্যাচ।
অন্যদিকে ইতালি বিশ্বকাপ বাছাই প্লে-অফে বসনিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে।








