ভোরের আলোয় কিংবা রাতের নীরবতায়—কোথাও না কোথাও বাজে তার গান। কখনো রেডিও থেকে ভেসে আসে, কখনো টেলিভিশনের পুরনো সিনেমায় দেখা মেলে। অগণিত শ্রোতার কাছে সেই সুরের নাম একটাই- সাবিনা ইয়াসমিন।
১৯৬৭ সালে “আগুন নিয়ে খেলা” ছবির “মধুর জোছনা দীপালি” গান দিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রা। তখন হয়তো কেউই ভাবেননি, এই কিশোরী কণ্ঠশিল্পী একদিন হয়ে উঠবেন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। কিন্তু সাবিনা ইয়াসমিন নিজেই লিখেছেন তার পথচলার মহাকাব্য।
সুরে ভরা শৈশব
গানের ভেতরেই বেড়ে ওঠা তার। পরিবার থেকেই শিখেছেন সুর ও তাল। আর সেই ভীত থেকেই তৈরি হয়েছে দৃঢ় কণ্ঠ, যা সময়ের সাথে শুধু শক্তিই পায়নি, পেয়েছে আবেগের মাধুর্য। তার গাওয়া গান মানেই এক রকম আশ্রয়- যেন এক টুকরো পরিচিত আবহ, যেখানে ফিরে গেলে মন ভরে ওঠে।
জন্মদিনে স্মৃতির আলো
১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়া দিলশাদ ইয়াসমিন গানের জগতে হয়ে উঠেন সবার প্রিয় সাবিনা ইয়াসমিন। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ৭১ বছর পূর্ণ করে বাহাত্তরে পা দিলেন সুরের এই কিংবদন্তী। বয়স শুধু সংখ্যার খেলা—এমন মানুষদের জন্যই বলা হয়। কারণ তার গান আজও একইভাবে আলো ছড়ায়, যেমনটা প্রথম দিনের মতোই।
জন্মদিনের বিশেষ দিনে বরাবরের মতো এবারো চ্যানেল আই নিয়েছে নানা উদ্যোগ। আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠানের।
পুরস্কার, সম্মান আর দায়িত্ব
একুশে পদক (১৯৮৪), স্বাধীনতা পদক (১৯৯৬)—রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি তার ঝুলিতে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেছেন রেকর্ড সংখ্যক বার। তবে হয়তো সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি আসে অন্য জায়গা থেকে—যখন শ্রোতা বলেন, “আপনার গান আমার জীবনের সঙ্গী।”
১০ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করা, দেড় হাজারের বেশি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেওয়া—এই পরিসংখ্যানগুলো আসলে সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি কিছু! এগুলো একেকটি সময়, একেকটি প্রজন্মের স্মৃতি, যা বাঁধা আছে তার কণ্ঠে।
সবার জন্য গান
সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া গান মানে শুধু বিনোদন নয়, বরং মনের ভেতর লুকানো গল্পগুলোর দরজা খোলা। প্রেম, বেদনা, দেশপ্রেম কিংবা আনন্দ—যে আবেগেই হোক, তার কণ্ঠ যেন প্রতিবারই তা নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
“গান আমার কাছে শুধু গান নয়, এটা মানুষের সাথে হৃদয়ের যোগসূত্র।” — সাবিনা ইয়াসমিন একবার বলেছিলেন।
কিংবদন্তীর জীবনগান
প্রজন্ম বদলেছে, সময় পাল্টেছে, প্রযুক্তি ঘুরেছে নতুন মোড়। তবু সাবিনা ইয়াসমিন রয়ে গেছেন একইভাবে জনপ্রিয়, একইভাবে প্রাসঙ্গিক। তার গানই সাক্ষ্য দেয়—কিছু কণ্ঠ সময়ের সীমারেখা পেরিয়ে চিরকালীন হয়ে ওঠে।








