বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ও প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং বাংলাদেশের প্রথম শিশু চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর পরিচালক ফজলুল হকের জন্মদিন রবিবার। ১৯৩০ সালের ২৬ মে বগুড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম।
ফজলুল হক এর জন্মদিন উপলক্ষে এদিন বিকেল ৫টায় আলোচনা সভার আয়োজন করেছে রাবেয়া খাতুন ফাউন্ডেশন।
এই গুণী মানুষটিকে স্মরণ করতে ফজলুল হক স্মৃতি কমিটি প্রতি বছর চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র পরিচালনায় শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে দু’জনকে পুরস্কার দিয়ে থাকে।
প্রয়াত ফজলুল হক স্মরণে ২০০৪ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন কথাশিল্পী রাবেয়া খাতুন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন চলচ্চিত্রের এই গুণী মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের একটি মূল মিলনায়তনের নামকরণ করেছে ‘ফজলুল হক স্মৃতি মিলনায়তন’। এছাড়া চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ফজলুল হক ইন্সটিটিউট অব মিডিয়া স্টাডিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ফজলুল হক। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কথিকা লিখতেন। আকাশবাণী কলকাতায় পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নামে নাটক রচনা ও পরিচালনা করেন। আকাশবাণীতে তিনি মণি হক নামে অনেক অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে ঘড়ির ডায়ালে বাংলায় সময় লেখা ‘বাংলা ঘড়ি’ চালু করেন। ১৯৭৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় তার চলচ্চিত্র ‘উত্তরণ’ , যেটি তিনি ১৯৬০ সালে ‘আজান’ নামে চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেছিলেন।
১৯৭৬ সাল থেকে তিনি কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। এখানে বসবাস কালে ‘চিত্রসারথী’ নাম নিয়ে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এর মধ্যে একটি লোককাহিনি ভিত্তিক চলচ্চিত্র সাতভাই চম্পা। ১৯৯০ সালের ২৬ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তাকে কলকাতার গোবরা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
ফজলুল হক ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠপুত্র ফরিদুর রেজা সাগর শিশু সাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি. ও চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ছোট ছেলে ফরহাদুর রেজা প্রবাল বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্থপতি, বড় মেয়ে কেকা ফেরদৌসী বিশিষ্ট রন্ধনবিদ ও ছোট মেয়ে ফারহানা মাহমুদ কাকলী।







