ভুটানের বিপক্ষে ড্র করলেই ফাইনালের টিকিট কাটা যাবে এমন সমীকরণ সামনে রেখেই মাঠে নামে বাংলাদেশ। তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষকে অবশ্য ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েই শিরোপা জয় থেকে এক পা দূর ছোটনের দল। অধিনায়ক সামসুন্নাহার জুনিয়র করেছেন হ্যাটট্রিক। জোড়া গোলের দেখা পান আকলিমা খাতুন।
তিন ম্যাচে দুই জয় এবং এক ড্রয়ে টেবিলে সবার উপরে থাকা বাংলাদেশের পয়েন্ট ৭। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নেপাল ৬ পয়েন্ট পেয়েছে। আসর থেকে বিদায় নেয়া ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ৪ পয়েন্ট পায়। সব ম্যাচ হারা ভুটানের খাতা শুন্য।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টায় কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু থেকেই একের পর এক অফসাইডের ফাদে পড়তে থাকে গোলাম রব্বানি ছোটনের দল। বল নিয়ে সামসুন্নাহার যতবার দৌড়ে যাচ্ছিলেন ততবার বেজে উঠছিল রেফারির বাঁশি।
নবম মিনিটে ডি বক্সে ঢুকে কিক নিতে খানিকটা দেরি করে ফেলেন আকলিমা খাতুন। জটলার ভেতর থেকে ভুটানের গোলরক্ষক সোনাম পেলডেন বল লুফে নেন।
দুই মিনিট পর ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে আসা শাহেদা আক্তার রিপার বাড়ানো বল তিন বাংলাদেশি ফুটবলারের পা হয়ে প্রতিপক্ষের এনগাওয়াং চোডেনের ক্লিয়ারে লক্ষ্যভেদ হয়নি।
খেলার ১৭ মিনিটে ক্ষীপ্র গতিতে ডান প্রান্ত দিয়ে অনেকখানি দৌড়ে যান লাল-সবুজের দলের অধিনায়ক সামসুন্নাহার জুনিয়র। ভুটানের গোলরক্ষকের ট্যাকেলে আক্রমণ নস্যাৎ হয়। তিন মিনিট পর শুরুর একাদশে খেলতে নামা উন্নতি খাতুনের ব্যাক পাসে বল পাওয়া স্বপ্না রানির শট পেলডেন ধরে ফেলেন।
২২ মিনিটে ভাঙে ডেডলক। সামসুন্নাহারের পাসে প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারকে কাটিয়ে মাটি কামড়ানো শটে নিশানাভেদ করেন আকলিমা।
খানিক পরে পেনাল্টিতে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ডি বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন সামসুন্নাহার। ২৫ মিনিটে রিপার স্পট কিক পোস্টের ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
চার মিনিট পর উন্নতির কর্নার কিকে উড়ে আসা বল হেডে জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন সামসুন্নাহার।
তিন মিনিট পর গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি আকলিমা। বিরতির পর ৪৭ মিনিটে তিনি আবারো গোল সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। তিন মিনিট পর রিপার পাসে ফ্লিক করতে না পারায় জালের দেখা পাননি সামসুন্নাহার।
খেলার ৫৩ মিনিটের দুরন্ত গতিতে বল নিয়ে ছুটে গিয়ে সোনামকে পরাস্ত করে সামসুন্নাহার জালে বল জড়ান।
একের পর এক আক্রমণ করে যাওয়া বাঘিনীরা ৫৬ মিনিটে পরপর দুটি গোলের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। রিপার পাসের পর ইতি খাতুনের ক্রসে আকলিমা কাজের কাজ করতে পারেননি। এরপর ইতির দূরপাল্লার শটে ভুটানের গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের উপর দিয়ে সামসুন্নাহার বল পাঠিয়ে দেন।
ম্যাচের ৬০ পোস্টের সামনে থেকে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক সামনে বেরিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আকলিমা আলতো টোকায় নিশানাভেদ করেন। কয়েক সেকেন্ড পর আবারো একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ভুটানের গোলরক্ষক করায় আকলিমার পাসে বল নিয়ে হ্যাটট্রিকের দেখা পান সামসুন্নাহার।
আকলিমার সামনেও এসেছিল হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। শেষ মুহুর্তে ভুটানের এক খেলোয়াড় তা বিপদমুক্ত করেন।
নিয়মিত গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে বেঞ্চে বিসিয়ে ৬৯ মিনিটে সাথী বিশ্বাসকে মাঠে নামান ছোটন। ৭৭ মিনিটে স্বপ্নার বদলে নামেন রুপা।
৮৭ মিনিটে আইরিন খাতুনের শট ঠেকান সোনাম। বাকি সময় আর আসেনি গোল। তবে ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসটা বাড়িয়ে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ।







