বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি, ‘সোনালী কাবিন’-খ্যাত আল মাহমুদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের শেষ দিন আজ। কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণ, সংগীতানুষ্ঠান, পদক প্রদানসহ নানা সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করা হচ্ছে।
স্মরণোৎসবের সমাপনী আয়োজনে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারকে প্রদান করা হবে ‘সোনালী কাবিন পদক-২০২৬’। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আল মাহমুদের সাহিত্যচর্চা ও চিন্তাধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌড়াইল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র কাব্যভাষার পরিচয় দেন তিনি। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘সোনালী কাবিন’ তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির কবিদের অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ভাটি বাংলার নদী, চরাঞ্চলের জীবন, গ্রামীণ প্রেম-বিরহ, লোকজ সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক ভাষার সৃজনশীল ব্যবহারের মাধ্যমে আল মাহমুদ বাংলা কবিতায় নির্মাণ করেছেন নিজস্ব শিল্পভাষা। কবিতার পাশাপাশি তিনি ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘কবি ও কোলাহল’ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কাবিলের বোন’।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

