ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তিবিশেষের স্বৈরাচারী ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতা রোধ করতেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
আজ (১৩ জানুয়ারি) মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আলী রীয়াজ। সভার আয়োজন করে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বারবার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যক্তিনির্ভরতার বদলে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই কারণেই। উচ্চকক্ষ গঠিত হলে একদিকে যেমন জনগণ ও সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, তেমনি সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবার মতামত প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিলাম, যেখানে সকল মানুষের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও সে রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। দলীয় বিবেচনা ও ব্যক্তিতান্ত্রিক ক্ষমতার লোভে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
আসন্ন গণভোটকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি তৈরির নির্বাচন উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যদি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হয় এবং তা আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হয়, তাহলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় অপরিহার্য।







