একের পর এক আক্রমণের পসরা সাজানো ফুটবল দেখল দর্শকরা। শক্তির বিচারে অনেকটা এগিয়ে থাকা ইরানের বিপক্ষে সাবলীল ফুটবল খেললেও ফিনিশিং দুর্বলতায় গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। অন্তিম মুহূর্তে উল্টো গোল হজম করায় ১-০ ব্যবধানে হেরে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ওমেন্স এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ল গোলাম রব্বানি ছোটনের দল।
এইচ গ্রুপে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট কেটেছে ইরান। ৩ পয়েন্ট নিয়ে বাদ পড়ল টিম টাইগ্রেস। গ্রুপের আরেক দল তুর্কমেনিস্তান দুই ম্যাচে হারায় পয়েন্টের দেখা পায়নি।
রোববার বিকেলে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৪১ সেকেন্ডেই গোলের সুযোগ পায় বাংলাদেশ। বল নিয়ে প্রতিপক্ষ বক্সের ভেতর ঢুকে যান আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা আকলিমা খাতুন। ইরান ডিফেন্ডার ফাতেমেহ ইউসুফি তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলেও আকলিমা এগিয়ে যান। গোলরক্ষককে একা পেয়েও অবশ্য দুর্বল শট নেয়ায় জালের দেখা পাননি।
সপ্তম মিনিটে তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা হাসতি ফরোজানদেহর শট বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা গ্লাভসে জমা হয়। খানিক পর আকলিমা আবারও বক্সে ঢুকে গোলের দ্বারপ্রান্তে যান। ডিফেন্ডার ফাতেমেহ শেষ মুহূর্তে কর্নারের বিনিময়ে ইরানকে রক্ষা করেন। খেলার নয় মিনিটে আবারও আকলিমার গড়া আক্রমণ ভেস্তে দেন ফাতেমেহ।
ইরান দশ মিনিটের মাথায় নিশ্চিত গোল হাতছাড়া করে। স্ট্রাইকার নেগিন জানদির পাসে বল নিয়ে খানিকটা দৌড়ে রুপনাকে একা পেয়ে যান নাস্তারান মোহাম্মাদখানি। তার নেয়া ডান পায়ের প্লেসিং শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে নাস্তারানের গড়ানো শট রুপনা নিচু হয়ে ধরেন। খানিক পর সতীর্থের ক্রসে পাওয়া বলে হেড করেন নাস্তারান। পোস্টের উপর দিয়ে বল যায়। ২১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে দুরন্ত এক আক্রমণে যায় বাঘিনীরা। রিপার শট বক্সের ভেতর ব্লক করেছিলেন ফাতেমেহ। ফিরতি বল পেয়ে আইরিনকে পাস না দিয়ে শট নেন স্বপ্না রানি। বল জালে প্রবেশ না করে চলে যায় মাঠের বাইরে।
মিনিট দুয়েক পর বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। শাহেদা আক্তার রিপার দূরপাল্লার সুন্দর শটটি নিশানাভেদ না করে উপর দিয়ে যাওয়ায় স্বাগতিকদের লিড মেলেনি।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে বক্সে ঢুকে স্বপ্না পাস দেন আকলিমাকে। তিনি বল রিসিভ করতে না পারলে সেটি আদায় করে নেন পেছনে থাকা আইরিন খাতুন। ইরানি গোলরক্ষক ফাতেমেহ বারাতি আহমাদাবাদিকে একা পেলেও আইরিনের কিক সামান্যর জন্য জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ইরান অধিনায়ক কিমিয়া রাহিমিনিয়ার বাড়ানো বল নিয়ে গোলমুখে এগিয়ে যান নাস্তারান। পোস্ট থেকে দৌড়ে বাজপাখির মতো ছো মেরে বল লুফে জাত চেনান রুপনা।
বিরতির পর ৪৭ মিনিটে ইরানের স্ট্রাইকার জানদির কিক পোস্ট ঘেঁষে যায়। পরের মিনিটে রোউজিন তামরিনের শট অনেকটা উপর দিয়ে যায়। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বক্সের সামান্য আগে আকলিমাকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফাতেমা ইউসেফি। সেসময় রিপার উঁচু শট গোলের আশা নষ্ট করে।
পাঁচ মিনিট পর কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বল দারুণ ফিস্টে রুপনা প্রতিহত করেন। ৬৬ মিনিটে পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করে ইরানের মেয়েদের পাল্টা আক্রমণ ভেস্তে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে রুপনার ভুলেই গোল হজম করে বাংলাদেশ। কারণ ছাড়াই পোস্ট থেকে অনেকটা এগিয়ে আসেন তিনি। মধ্যমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়িয়ে দেয়া বল পান নেগিন জানদি। তিনি রুপনার এগিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাঁকা পোস্টে লক্ষ্যভেদ করেন।
যোগ করা সময় আট মিনিট দেয়া হলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ছোটনের মেয়েরা। হেরে ভাঙে স্বপ্ন।








