কুমিল্লা থেকে: মাঠটিতে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং আবাহনী লিমিটেড। ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই দেখার অপেক্ষা। ফুটবলপ্রেমীরা তো বটেই, ক্রীড়া সাংবাদিকরাও জমজমাট মহারণ নিয়ে পাঠকদের সামনে লেখনীর পসরা তুলে ধরতে মরিয়া।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিট। স্টেডিয়ামে ঢুকেই দেখা গেল মাঠের চারপাশে চলছে ম্যাচ ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। খেলা শুরুর তখনও সাড়ে তিন ঘণ্টার উপর বাকি। গ্যালারি থেকে শুরু করে প্রেসবক্স, অনেকটাই ফাঁকা। প্রেসবক্সে ঢোকার পর হতে হয়েছে রীতিমত হতাশ। ফেডারেশন কাপ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের খেলাগুলো নিয়মিতই কুমিল্লার মাঠে হয়ে থাকে। অথচ প্রেসবক্স রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির ছাপ স্পষ্ট।
বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে প্রেসবক্স হলেও সংবাদকর্মীদের কাজের পরিবেশ অনুকূলে নয়। যে স্থানে বসে সাংবাদিকরা ম্যাচ কভার করবেন, ঠিক সেই স্থানেই নেই ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল চার্জ দেয়ার সুইচ বোর্ড। সুইচ বোর্ড রয়েছে বটে, সেটি সাংবাদিকদের বসার স্থান থেকে বহুদূরে অবস্থিত। নিজ দায়িত্বে মাল্টিপ্লাগ কেউ না এনে থাকলে, ম্যাচ কভার করার মাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়াটা অসম্ভব হবে না।

দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে ম্যাচ হওয়ায় রক্ষা। বিকেলের পর খেলা গড়ালে বিপদ হয়তো সাংবাদিকদের আরেকটু বাড়ত। প্রেসবক্সে অধিকাংশ স্থানে লাইটের স্থানে লাইট বসানো হয়নি। কোথাও আবার বেরিয়ে রয়েছে তার। বেরিয়ে থাকা তারগুলো প্রেসবক্সের দৈন্যদশার প্রতিচ্ছবিই যেন।
প্রেসবক্সের কাঁচঘেরা সামনের অংশে সাংবাদিকদের বসার স্থান। তার বেশ খানিকটা পেছনে অনেকগুলো টেবিল রাখা, অধিকাংশই অপরিষ্কার। মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচের আগে পরিষ্কারের দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো স্টাফকে নজরে পড়েনি। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন হেলিকপ্টারে করে কখন ফাইনাল দেখতে আসবেন, তা নিয়েই অনেকের বাড়তি আগ্রহ।

দুপুর সোয়া ১২টার পর চলে গেল বিদ্যুৎ। অথচ টেলিভিশন ও বেতারে ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার ও ধারাবিবরণীর প্রস্তুতির জন্য চলছে কারিগরি সংক্রান্ত কাজ। ফাইনাল শুরু হওয়ার আগে আরও কতরকমের অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়, সেটাই এখন দেখার। বাংলাদেশ বেতারের এক প্রকৌশলী বলে গেলেন বিদ্যুৎ না থাকলে একঘণ্টা পাওয়ার ব্যাকআপ দেয়া যাবে। তবে খেলার মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে সমস্যায় পড়তে হবে।

কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের কক্ষকে অস্থায়ীভাবে বানানো হয়েছে বাংলাদেশ বেতারের ধারাভাষ্য কক্ষ। বেতারের জন্য কেন আলাদাভাবে ধারাভাষ্য কক্ষ নেই, সেটির সদুত্তর দেয়ার মতো দায়িত্বশীল কাউকেই নাগালে পাওয়া গেল না।








