বার্সেলোনার মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ার পর থেকেই উত্তাপ ছাড়াচ্ছে ইন্টার মিলানের ফুটবল স্বর্গ সান সিরোয়। ৮০ হাজার ধারণ ক্ষমতার জিউসেপ্পে মিয়াৎসা স্টেডিয়ামে দেখা যাবে আরেকটি জমজমাট লড়াই। ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে ফিরতি লেগে এবার ইন্টারের আতিথ্য নেবে বার্সা। তবে সেই মাঠে কাতালুনিয়ার দলটির জন্য আরও এক প্রতিপক্ষ হবে গ্যালারি ভর্তি দর্শক। লড়াইয়ের আগে দেখে নেয়া যাক দুদলের পরিসংখ্যানের খতিয়ান।
ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠার শেষ চেষ্টায় মঙ্গলবার ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে ইন্টার-বার্সা। সান সিরোয় বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হবে লড়াই।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যখন মুখোমুখি হয় বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলান, তখন লড়াইটা হয় দেখার মতোই। এই প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত ১৩ বার মুখোমুখি হয়েছে তারা। মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। তারা জয় পেয়েছে ৬ ম্যাচে। বিপরীতে সিমন ইনজাঘির দলের জয় কেবল ২টিতে, বাকি ৫ ম্যাচ হয়েছে ড্র।
জয়ের মতো গোলের দিক দিয়েও ইন্টারের চেয়ে এগিয়ে বার্সা। দুদলের দেখায় বার্সা বল জালে জড়িয়েছে ২০ বার। ইন্টার গোল পেয়েছে ১৩টি। প্রতিযোগিতায় শেষ ৫ দেখায়ও এগিয়ে বার্সা। তারা জিতেছে ২ বার। ইন্টার জিতেছে এক ম্যাচ। বাকি দুটি হয়েছে ড্র।
এর আগে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে ২০০৯-১০ মৌসুমের শেষ চারে কাতালানদের হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ইন্টার। সেবার স্প্যানিশ জায়ান্টদের দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে হারায় ইতালির ক্লাবটি। ওই মৌসুমেই শেষবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ইন্টার মিলান। এবার তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের মাঠে ফিরতি লেগ জিতে শোধ নেবার পালা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার।
সবশেষ ২০১৪-১৫ মৌসুমে শিরোপা জিতেছিল বার্সা। এরপর শেষ চারে আর জায়গা করতে পারেনি তারা। তবে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের ডেরায় গিয়ে খেলার কথা বাদ দিলে এগিয়ে থাকবে কাতালানরাই। লামিন ইয়ামাল ও রাফিনহাদের ছন্দের মৌসুমে ট্রেবল শিরোপা জয়ের পথে আছে ফ্লিকের দল।
অন্যদিকে রক্ষণশক্তিতেও চলতি মৌসুমে দারুণ ছিল ইন্টার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার ২০ গোল হজম করার বিপরীতে ইন্টার হজম করেছে কেবল ৮ গোল। তবে ঘরের মাঠে ইন্টার ৬ ম্যাচে ৩ গোল হজম করেছে। এমন রক্ষণের সঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের গর্জন তো আছেই।
তবে মাঠ, দর্শক, ইতিহাস বা পরিসংখ্যান-এসব একেকটি প্রেরণার নাম হতে পারে। আসল কাজটা মাঠেই করে দেখাতে হবে। ফলে মূল লড়াইটা হবে কৌশল আর স্নায়ুর।








