ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আলো ছড়ানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দুর্দান্ত রিশাদ হোসেন। ব্যাটে ঝড় তুলে বলও নিয়েছেন ৩ উইকেট। তারকা লেগ স্পিনারের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের দিনে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে হার দেখেছে বাংলাদেশ। শাই হোপের অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ম্যাচ টাই করে উইন্ডিজ। সুপার ওভারে এসে জিতে নেয় খেলা, এখন ১-১ সমতায় সিরিজ।
ম্যাচে শেষ ওভারে জিততে ক্যারিবীয়দের দরকার ছিল ৫ রান। সাইফ হাসান বোলিংয়ে আসেন। প্রথম দুই বলে ডট আদায় করেন। পরের দুই বলে দুটি সিঙ্গেল নেয় ক্যারিবীয়রা। পঞ্চম বলে আকিলকে বোল্ড করেন সাইফ। শেষ বলে জিততে ৩ রান লাগতো ক্যারিবীয়দের। খ্যারি পিয়েরে বল উপরে ভাসান, সোহান ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। ততক্ষণে ২ রান নিয়ে ম্যাচ টাই করে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।
সুপার ওভারে আগে ব্যাটে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ড ব্যাটে নামেন। মোস্তাফিজ বলে আসেন। দ্বিতীয় বলে উইকেট তুলে নেন টাইগার পেসার। পরে ব্যাটে আসেন ব্রেন্ডন কিং। তৃতীয় বলে ২ রান নেন তিনি। চতুর্থ বলে কিংয়ের ক্যাচ ফেলেন মিরাজ। ১ রান নেয় ক্যারিবীয়রা। পঞ্চম বলে ২ রান নেন হোপ। শেষ বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে ৪ আদায় করেন হোপ। ১ উইকেটে ১০ রান তোলে উইন্ডিজ।
১১ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। ব্যাটে আসেন সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার। বলে আসেন আকিল হোসেইন। প্রথম ডেলিভারিতে ওয়াইড দেন ক্যারিবীয় স্পিনার। পরের বল নো করে বসেন। ২ রান আদায় করেন সৌম্য। পরে বৈধ প্রথম বলে ১ রান নেন সৌম্য। ১ বলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ রান। দ্বিতীয় বলে ডট আদায় করেন আকিল। তৃতীয় বলে ১ রান নেন সাইফ। চতুর্থ বলে সৌম্য আউট হন ডিপ মিডউইকেটে গুডাকেশ মোতির হাতে ক্যাচ দিয়ে। ব্যাটে আসেন শান্ত। পঞ্চম বলে লেগ-বাই থেকে ১ রান আসে। শেষ বলে স্ট্রাইকে আসেন সাইফ। জিততে লাগতো ৪ রান। ওয়াইড দিয়ে বসেন আকিল। ১ বলে ৩ রানের সমীকরণে সাইফ ১ রান নিতে পারেন। হেরে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচে একাধিক রেকর্ড দেখেছে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরো ৫০ ওভার স্পিনার দিয়ে করানোর রেকর্ড গড়েছে। এক ম্যাচে স্পিনারদের দিয়ে করানো বোলিংয়ের রেকর্ডও হয়েছে। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ৯২ ওভার বল করেছেন স্পিনাররা। যার মধ্যে বাংলাদেশ করেছে ৪২ ওভার। আগের রেকর্ডটি ছিল ৭৮.২ ওভার, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচে।
আলো ছড়ানোর ম্যাচে রিশাদ ২০ বছর আগের রেকর্ড ভেঙেছেন। ওয়ানডেতে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এক ইনিংসে অন্তত ৩০ রান করাদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রাইকরেটের রেকর্ড এখন রিশাদ হোসেনের। ২৭৮.৫৭ স্ট্রাইকরেটে ১৪ বলে ৩৯ রান করেছেন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৭৫ স্ট্রাইকরেটে ১৬ বলে ৪৪ রান করেছিলেন তিনি। আগের রেকর্ডে মাশরাফীর সঙ্গী ছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০১৪ সালে মিরপুরেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৭৫ স্ট্রাইকরেটে ১৬ বলে ৪৪ রান করেছিলেন সাকিব।
এদিন টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভার শেষে ৭ উইকেটে ২১৩ রানের সংগ্রহ গড়ে টিম টাইগার্স। জবাবে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১৩ রান করে উইন্ডিজ। খেলা সুপার ওভারে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাটে নেমে ১ উইকেটে ১০ রান তোলে। জবাবে নেমে ১ উইকেটে ৯ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ।
ক্যারিবীয়দের রানতাড়ায় পাঠিয়ে ইনিংসের তৃতীয় বলেই উইকেট তুলে নেন নাসুম আহমেদ। ব্রেন্ডন কিংকে ফেরান। দ্বিতীয় উইকেটে ৫১ রান যোগ করেন আলিক আথানজে ও কেসি কার্টি জুটি। ১৩.৩ ওভারে ৫২ রানে রিশাদ জুটি ভাঙেন। আথানজেকে ফেরান। ৪২ বলে ২৮ রান করেন ক্যারিবীয় ওপেনার। ২১.২ ওভারে কেসিকে ফেরান রিশাদ। ৫৯ বলে ৩৫ রান করেন তিনি।
২৩তম ওভারের শেষ বলে চতুর্থ সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। আকিম অগাস্তেকে ফেরান তানভীর ইসলাম। ২৯ বলে ১৭ রান করেন। ২৬.৩ ওভারে ১০৩ রানে শেরফান রাদারফোর্ডকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান তানভীর। ১৩ বলে ৭ রান করেন রাদারফোর্ড।
৩২.১ ওভারে ১২৮ রানে গুডাকেশ মোতিকে তৃতীয় শিকার বানান রিশাদ। ২১ বলে ১৫ রান করেন মোতি। ১৩৩ রানে ক্যারিবীয়দের সপ্তম উইকেট তুলে নেন নাসুম। ১১ বলে ৫ রান করা রোস্টন চেজকে ফেরান। অষ্টম উইকেটে জাস্টিন গ্রিভসকে নিয়ে ৬৫ বলে ৪৪ রান যোগ করেন হোপ। ৪৪.৫ ওভারে মিরাজের থ্রুতে গ্রিভস আউট হলে জুটি ভাঙে। ৩৯ বলে ২৬ রান করেন গ্রিভস।
পরে আকিল হোসেন ও হোপ মিলে যোগ করেন ৩০ বলে ৩৪ রান। ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে আকিলকে ফেরান সাইফ। ১৭ বলে ১৬ রান করেন। শেষ বলে খ্যারি পিয়েরে বল উপরে তুলে দেন, সোহান ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। ততক্ষণে ২ রান নিয়ে ম্যাচ টাই করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টাইগার বোলারদের মধ্যে রিশাদ ৪২ রানে ৩ উইকেট নেন। তানভীর ইসলাম ও নাসুম আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট। সাইফ নেন ১ উইকেট।
এর আগে মিরপুরের স্পিন উইকেটের সুবিধা নিতে স্পিনারদের দিয়েই ইনিংস শুরু করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২২ রানে বাংলাদেশের প্রথম উইকেট তুলে নেয় তারা। সাইফ হাসান ফেরেন ১৬ বলে ৬ রান করে। এরপর ধীরগতিতে রান তুলতে থাকে বাংলাদেশ। ৪১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায়। তাওহীদ হৃদয় আউট হন ১৯ বলে ১২ রান করে। ১৭.২ ওভারে ৬৮ রানের সময় শান্ত ফেরেন ২১ বলে ১৫ রান করে।
২৮তম ওভারের শেষ বলে ৯৬ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ফেরেন ৩৫ বলে ১৭ রান করে। ৩০.৩ ওভারে ১০৩ রানে সৌম্য সরকার ফিরে যান। টাইগার ওপেনার ৩ চার ও এক ছক্কায় ৮৯ বলে ৪৫ রান করেন। ১২৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ে।
নাসুম আহমেদ ফেরেন ২৬ বলে ১৪ রানে। ৪৬তম ওভারের শেষ বলে নুরুল হাসান সোহান ফিরে যান। ২৪ বলে ২৩ রান করেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
১৬৩ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ঝড় তোলেন রিশাদ হোসেন। তাদের ২৪ বলে ৫০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ২১৩ রানের সংগ্রহ আনে বাংলাদেশ। ৩টি করে চার ও ছক্কায় ১৪ বলে ৩৯ রান করেন রিশাদ, ৫৮ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।
ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে গুডাকেশ মোতি ৩ উইকেট নেন। আলিক আথানজে ও আকিল হোসেইন নেন দুটি করে উইকেট।








