সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দুইশোর কাছে পুঁজি নিয়ে লড়াইও করা যায়নি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পৌনে দুইশোর কাছে পুঁজি নিয়ে সেখানে জয়ই তুলেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ফিফটিতে পাওয়া সংগ্রহে স্বার্থকতা দেন বোলাররা। মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তার, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুনদের সম্মিলিত ঝলকে বাংলাদেশ পেয়েছে ঐতিহাসিক জয়। যা দিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট কাটার সুযোগ জিইয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। শেষ ওয়ানডেতে জিতলে যেটি সম্ভব হবে, সঙ্গে জেতা হবে সিরিজও। ক্যারিবীয়দের মাঠে প্রথমবার সিরিজ জিততে মরিয়াই থাকছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক জ্যোতি।
সেন্ট কিটসে মঙ্গলবার রাতে টসে জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান উইন্ডিজ অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস। ৪৮.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানের সংগ্রহ পায় টিম টাইগ্রেস। জবাবে ৩৫ ওভারে ১২৪ রানে গুটিতে যায় স্বাগতিক দল। ৬০ রানের বড় জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা এনেছে জ্যোতির লাল-সবুজের দল। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ গড়াবে শুক্রবার, বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়।
দেশের বাইরে একটি সিরিজ অবশ্য আগেও জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়েকে তাদের মাটিতে তিন ম্যাচ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে ২৭ বর্ষী জ্যোতি বলেছেন, ‘নিজেদের উপর বিশ্বাস ছিল, যদিও এমন উইকেটে রান অনেক কম ছিল। দুশোর বেশি রান করতে না পারলে আসলে বোলারদের জন্য অনেকবেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ম্যাচে নামার আগে, আমরা বলছিলাম শেষপর্যন্ত যেন একে অপরের উপর বিশ্বাস রাখি। কারণ আমরা যদি জায়গা মতো বল করতে পারি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী উইকেটগুলো নিতে পারি, তবে ভালো কিছু সম্ভব।’
‘ম্যাচে প্ল্যান ছিল আগে বোলিং করার। টসে হেরে যখন আমরা ব্যাটিংয়ে গিয়েছি, দুশোর বেশি সংগ্রহ দাঁড় করানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সেটা পারিনি। উইকেট হারানোর মাঝে চেষ্টা করেছি অনেকবেশি বল খরচ করে হলেও যেন সেট হতে পারি। আমার কাছে মনে হয়েছিল আমার উইকেটটি অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
‘দলের জন্য কন্ট্রিবিউট করতে পেরে অনেক খুশি। দিন শেষে পুরো ক্রেডিট পুরো দলের। প্রত্যেকটা বোলার-ফিল্ডার যেভাবে খেলেছে, নিজেদের ১১০ শতাংশ দিয়ে খেলেছে, যেটা ছিল দুর্দান্ত। সবার চেষ্টায় এরকম একটা জয় সম্ভব হয়েছে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজের শেষ ম্যাচে হারালে ২০২৫ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে পারবে বাংলাদেশ। এসব সমীকরণে যদিও নজর নেই জ্যোতির। আপাতত বিদেশে সিরিজ জিততে মুখিয়ে আছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
‘বিশ্বকাপের সমীকরণ নিয়ে এখনও কোনো চিন্তা করছি না। প্রথম ম্যাচটা হারের ঠিক একদিন পরই জয়ে ফেরাটা আসলে বেশি হুরুত্বপূর্ণ ছিল। যেটা আমাদের ভবিষ্যতে অনেকবেশি কাজে লাগবে। এখানে দুইটা বিষয় আমাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটা হল জয়ে ফেরার মোমেন্টাম, সেটা আমরা পেয়েছি। পরের ম্যাচে চেষ্টা থাকবে এটা ধরে রাখার। অন্যটি হল পরের ম্যাচে আমাদের সিরিজ জয়ের একটা সম্ভাবনা আছে, যেটা আমরা তাদের মাটিতে কখনই পারিনি।’










