ক্রিকেট

হৃদয়ের মহাকাব্যিক ইনিংসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ, প্রশংসায় পঞ্চমুখ সিমন্স

হৃদয়ের মহাকাব্যিক ইনিংসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ, প্রশংসায় পঞ্চমুখ সিমন্স

সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনটা নিজের করে নিলেন তাওহীদ হৃদয়। ব্যাট হাতে একাই বদলে দিলেন ম্যাচের চিত্র। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় লিড নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন ৩০ রানের লিড। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে রূপ দিলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। এমন অসাধারণ ইনিংসে মুগ্ধ বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।

দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো অবস্থানে ছিল না বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট হারানোর পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১৭২ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন হৃদয়। সঙ্গী হিসেবে পান তাইজুল ইসলামকে। অষ্টম উইকেটে দুজনের ১১৭ রান এবং নবম উইকেটে তাসকিনকে নিয়ে ৮৫ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

শেষ পর্যন্ত একপ্রান্ত আগলে রেখে ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। অন্যপ্রান্তে একে একে উইকেট হারালেও এই ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরাতে পারেনি ক্যারিবীয় বোলাররা। তার ব্যাটে ভর করেই প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

হৃদয়ের এমন দায়িত্বশীল ইনিংসের পর প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কণ্ঠেও ঝরেছে প্রশংসা। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ছেলেদের সব সময় বলি, সুযোগ এলে সেটা লুফে নিতে হবে এবং ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। তুমি যখন মাঠে থাকবে, তখন দায়িত্ব তোমার। দলের জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই করে যেতে হবে। হৃদয়ের কাছে আমাদের যা প্রত্যাশা ছিল, আজ সে সবকিছুই করে দেখিয়েছে।’

হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের ধরন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার সামর্থ্যও মুগ্ধ করেছে সিমন্সকে। বলেছেন, ‘হৃদয়ের ইনিংসটি অসাধারণ ছিল। সত্যিই অবিশ্বাস্য একটি ইনিংস। বাউন্ডারিতে ফিল্ডার থাকার পরও সে চার-ছক্কা মেরেছে। সব মিলিয়ে হৃদয়ের প্রচেষ্টা ছিল দুর্দান্ত। সে ম্যাচের পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বুঝেছে। কখন শট খেলতে হবে, কখন শেষের তিন ব্যাটারকে স্ট্রাইক দিতে হবে, সবকিছুই দারুণভাবে সামলেছে।’

হৃদয়ের এই সাফল্যের রহস্য কী, সেটি অবশ্য মজার ছলেই ব্যাটারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ। সিমন্স বলেন, ‘হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে তাকেই জিজ্ঞেস করতে পারেন, তার সাফল্যের রহস্য কী? কারণ সেটা শুধু সে-ই জানে। সে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করেছে। ঢাকায় কিছু বাজে শট খেলেছিল, কিন্তু এই ম্যাচে তাকে সেই অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। এখানে সে যথেষ্ট পরিণত ব্যাটিং করেছে।’

ব্যাটারদের মাঠে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন সিমন্স। বলেছেন, ‘আমি ব্যাটারদের আলাদা করে কোনো বার্তা দিই না। তারা নিজেদের প্রতিভা ও সামর্থ্য অনুযায়ী ঠিক করে কীভাবে ব্যাটিং করবে। আমরা শুধু তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি, মাঠে নামার পর দায়িত্ব তাদেরই। তখন পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি তো ড্রেসিংরুমে থাকি। সেখান থেকে সব সময় বার্তা দেওয়া সম্ভব নয়। হৃদয় ছাড়াও মুশফিক, তাইজুল এবং অন্য যারা ব্যাটিং করেছে, সবাই মিলে পরিস্তিতি পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে কত রান তাড়া করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে বাংলাদেশ, সেই হিসাব এখনই কষতে চান না সিমন্স। তার মতে, সিলেটের উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। বলেছেন, ‘কত রানের লক্ষ্য তাড়া করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব, সেটা এখনই বলতে পারব না। শেষবার পাকিস্তানের বিপক্ষে এখানে আমরা তাদের প্রায় ৫০০ রানের লক্ষ্য দিয়েছিলাম। তারা ৩০০ থেকে ৪০০ রানের মধ্যে গিয়ে থেমেছিল। তাই আমার কাছে এখনও উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো মনে হচ্ছে। দেখা যাক, আগামীকাল সকালে তারা কী করে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের সামনে কত রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।’

বিষয়:ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ সিমন্স সিলেট টেস্ট হৃদয়

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…