প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শততম টেস্টে নেমে ব্যাটে রাঙিয়েছেন, ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে মাইলফলকের ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ফিফটি পেরোনো ইনিংস উপহার দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বল হাতে রাঙিয়েছেন তাইজুল ইসলাম, দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারি হওয়ার পাশাপাশি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২৫০ উইকেটের ক্লাবে পৌঁছেছেন। দুই অভিজ্ঞ তারকার স্মরণীয় ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ২১৭ রানে হারিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে অতিথিদের হোয়াইটওয়াশের স্বাদ নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন মুশফিকুর। ইতিহাসের ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ৫৩ রানে। তাতে রিকি পন্টিংয়ের পাশে নাম লেখান। দুজনই শততম টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশের বেশি রান করেছেন। অজি সাবেক পন্টিং অবশ্য জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন, মুশফিকের সেটির সুযোগ হয়নি চতুর্থ দিনে অধিনায়ক ইনিংস ঘোষণা করে দেয়ায়।
ব্যাটে মুশফিকের ইতিহাস গড়া ম্যাচে বোলিংয়ে আলো ছড়ান তাইজুল। মাইলফলকে নাম লেখানোর মঞ্চে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেন। যা দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারি থাকা সাকিব আল হাসানের রেকর্ডে ভাগ বসান। সাকিব ২৪৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যান্ডি ব্যালবির্নেকে ফিরিয়ে সাকিবকে ছাড়িয়ে যান তাইজুল। শনিবার মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে আরও দুই উইকেট নেন তাইজুল। ২৪৯ উইকেটে দিনের খেলা শেষ করেন। পঞ্চম ও শেষদিনে নিজের সপ্তম ওভারে মাইলফলকের উইকেটটি নেন বাঁহাতি স্পিনার। ম্যাকব্রিনেকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। ৫৭তম ম্যাচে নেমে ইতিহাসের ৫৩তম বোলার হিসেবে আড়াইশতে পৌঁছান তাইজুল। ষষ্ঠ বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে কীর্তিটি গড়েন তাইজুল। তার আগে যে ক্লাবে ছিলেন বিষেণ সিং বেদি (২৬৬), ডেরেক আন্ডারউড (২৯৭), রবীন্দ্র জাদেজা (৩৪৩), ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (৩৬২) এবং রঙ্গনা হেরাথ (৪৩৩)।
বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে কম টেস্টে ২৫০ উইকেট নেয়ার কীর্তিতে শ্রীলঙ্কান সাবেক রঙ্গনা হেরাথের পাশে নাম লিখিয়েছেন তাইজুল। দুজনই ৫৭ টেস্টে মাইলফলকে পৌঁছান।
বুধবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টসে জিতে আগে ব্যাটে নেমেছিল টিম টাইগার্স। প্রথম ইনিংসে ১৪১.১ ওভারে ৪৭৬ রানে থামে শান্তর দল। জবাবে শুক্রবার তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় সেশনে গুটিয়ে যায় আইরিশদের প্রথম ইনিংস। ৮৮.৩ ওভারে ২৬৫ রান করে তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৬৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২৯৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। আগের ২১১ রানসহ লিড দাঁড়ায় ৫০৮ রান। জবাবে ১১৩.৩ ওভারে আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৯১ রানে। ম্যাচে ফল আসে পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশনে।
৫৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৬ রানে থাকা আয়ারল্যান্ড রোববার শেষদিনের খেলা শুরু করে। ১৪তম ওভারে দিনের প্রথম সাফল্য পায় টিম টাইগার্স। অ্যান্ডি ম্যাকব্রিনেকে ফেরান তাইজুল। ১৮৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অতিথি দলটি। ২১ রান করেন ম্যাক। ২৩৭ রানে অষ্টম উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফেরেন ৩০ রান করা জর্ডান নেইল।
নবম উইকেটে কার্টিস ক্যাম্ফের ও গ্যাভিন হোয়ে কাটিয়ে দেন ৩১.৫ ওভার। ৫৪ রান যোগ করেন দুজনে। ১১৩.২ ওভারে হোয়েকে ফেরান হাসান মুরাদ। ১০৪ বলে ৩৭ রান করেন হোয়ে। পরের বলেই ম্যাথিউ হামফ্রেয়ার্সকে বোল্ড করেন তরুণ স্পিনার। বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন ২১৭ রানে। ক্যাম্ফের অপরাজিত থাকেন ২৫৯ বলে ৭১ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ও হাসান মুরাদ ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন। খালেদ আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন একটি করে উইকেট।
বুধবার প্রথমদিনে ব্যাটে নেমে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনের প্রথম দুই সেশন পর্যন্ত ব্যাট করেছিল। সেঞ্চুরি করেন শততম টেস্টে নামা মুশফিক ও লিটন দাস। ৯০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৯২ রানে প্রথমদিন শেষ করা স্বাগতিকরা দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করে আরও ৫১.১ ওভার। যোগ করে ১৮৪ রান।
শততম টেস্টে নেমে সেঞ্চুরির অনন্য কীর্তিতে নাম লেখান মুশফিক। ইতিহাসের ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে মাইলফলক গড়েন। সঙ্গে বাংলাদেশ জার্সিতে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডে মুমিনুল হকের সঙ্গে ভাগ বসান। দুজনেই ১৩টি করে সেঞ্চুরি করেছেন। ৫ চারে ২১৪ বলে ১০৬ রান করে ফেরেন মুশফিক।
ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন দাস। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ১৯২ বলে ১২৮ রান করে ফিরেছেন। প্রথম ইনিংসে ফিফটি পেয়েছেন মুমিনুল হক। ১২৮ বলে ৬৩ রান করেছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ৪৭, সাদমান ইসলাম ৩৫ এবং মাহমুদুল হাসান জয় ৩৪ রান করেছেন।
প্রথম ইনিংসে আইরিশ স্পিনার আন্ডি ম্যাকব্রিনে ৬ উইকেট নেন। ম্যাথিউ হামফ্রেয়াস ও গ্যাভিন হোয়ে নেন দুটি করে উইকেট।
জবাবে নেমে ২৬৫ রানে থামে আইরিশদের প্রথম ইনিংস। প্রথম ইনিংস থেকে তাইজুল ৪ উইকেট নেন। খালেদ আহমেদ ও হাসান মুরাদ নেন ২টি করে উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেন নেন একটি করে উইকেট।
২১১ রানে এগিয়ে শুক্রবার তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। মাহমুদুল হাসান জয় ৬০, সাদমান ইসলাম ৭৮, মুমিনুল হক ৮৭ ও মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৫৩ রানের সময় ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত। ৫০৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দিতে পারে বাংলাদেশ।







