মেয়েদের সাফে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতো বাংলাদেশের। এমন সমীকরণে নেমে আগের আসরে পাকিস্তানকে ৬-০তে উড়িয়ে দেয়া লাল-সবুজের দল উল্টো শুরুতেই গোল হজম করে বসে। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে পাকিস্তানের কাছে হার এড়িয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।
কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচজুড়ে সাবিনা-শামসুন্নাহাররা দাপট দেখালেও শেষপর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে জেমস বাটলারের দল। বাংলাদেশের নেয়া ১৬ শটের মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে থাকে, যেখানে পাকিস্তানের ৪টির মধ্যে লক্ষ্যে ছিল দুটি।
ম্যাচের শুরু থেকে পাকিস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। ছয় মিনিটের মধ্যে প্রথম সুযোগ আসে লাল-সবুজদের। তহুরা খাতুনের ভাসিয়ে মারা দূরপাল্লার কোণাকুণি শটে হেডে বল জালে পাঠাতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র।
ম্যাচের নয় মিনিটে ভেসে আসা বলে হেড করতে গিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক মারিয়া জামিলা খানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে শামসুন্নাহার জুনিয়রের। সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন দুজনে। দুদলের ফিজিসিয়ানরা আসেন মাঠে। আঘাত কিছুটা কম গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনের মাথায়ই ব্যান্ডেজ করতে হয়। কয়েক মিনিট পর আবারও লড়াই শুরু করে বাংলাদেশ-পাকিস্তান।
১৯ মিনিটে আক্রমণে যায় টিম টাইগ্রেস। ডি-বক্সের ভেতর থেকে উড়িয়ে শট নেন শামসুন্নাহার। বল চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। দুমিনিট পর আরও একবার ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। এবার শট নেন তহুরা খাতুন।
শুরুর ২০ মিনিটে চাপে থাকা পাকিস্তান পরে পাল্টা আক্রমণে আসতে থাকে। ২১ মিনিটে তারা সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। ২৫ মিনিটে সুহা ইরানির দারুণ একটি শট সেভ করেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক রুপনা চাকমা।
২৫ মিনিটে ঋতুপর্নার জোরাল শট যায় গোলকিপারের হাতে। পরের মিনিটে পাকিস্তানের একজনের শট একটুর জন্য লক্ষ্যভেদ হয়নি। ৩১ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার মিলেও শট ঠেকাতে পারেননি। ডি-বক্সের ভেতর পাকিস্তান ফরোয়ার্ড জাহমিনা মালিকের শট তেমন জোরাল ছিল না। সেটিই আটকাতে পারেননি বাংলাদেশ গোলরক্ষক রুপনা। লিড নেয় পাকিস্তান।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে একের পর এক আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। ৬৬ মিনিটে শট নেন ডিফেন্ডার ঋতুপর্না, পরের মিনিটে আরেকটি শট নেন মনিকা চাকমা। কোনভাবেই জালের দেখা পাচ্ছিল না গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা জেমস বাটলারের দল।
৭৩ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে মনিকার নেয়া দূরপাল্লার আরও একটি শট ঠেকিয়ে দেন পাকিস্তান গোলরক্ষক নিশা আশরাফ। পরের মিনিটে পাকিস্তানের জালকে আরও একবার রক্ষা করেন ২৬ বর্ষী গোলরক্ষক। ৭৬ মিনিটে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে যান বদলি নামা সুমায়া মাতুশিমা। ফাঁকা মাঠে বল নিয়ে এগিয়ে গেলেও শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের জাল রক্ষা করেন রুপনা।
যোগ করা সময়ে ঋতুর ক্রস থেকে বল পেয়ে মাথার আলতো ছোঁয়াতে জালে পাঠান শামসুন্নাহার। সমতায় ফেরে টিম টাইগার্স। সাফের আগের আসরে পাকিস্তানের সঙ্গে ৬-০তে জেতা বাংলাদেশের মেয়েরা শেষঅবধি ওই গোলে ড্র নিয়ে শেষ করে লড়াই।








