সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টের শেষদিনে দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউটের সময় কেবল ২৯ রানের লিড নিতে পেরেছে শান মাসুদের দল। জয়ের জন্য লাল-সবুজদের সামনে লক্ষ্য ৩০ রানের। পঞ্চম দিনে খেলা বাকি অন্তত ৫২ ওভার।
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে রোববার সকাল থেকেই পাকিস্তানকে ভালোভাবেই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয়ের মঞ্চ গড়েছে, অপেক্ষা ৩০ রানের। পাকিস্তানের মাটিতে কোনো ফরম্যাটেই জয় নেই লাল-সবুজদের। হারের বৃত্ত ভেঙে টেস্ট জয়ের রোমাঞ্চকর সুযোগ তৈরি করেছে শান্তবাহিনী। টাইগাররা দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে অলআউট করেছে ১৪৬ রানে।
ম্যাচের চতুর্থ দিনে পাকিস্তান শেষ করেছিল ১ উইকেটে ২৩ রান তুলে। শেষদিনের সকালে শুরুতেই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের হাত ধরে দিনের দ্বিতীয় ওভারে আসে সাফল্য। রিভিউ নিয়ে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক শান মাসুদকে ফেরান ডানহাতি পেসার। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেয়ার আগে করেন ১৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে দলীয় ২৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান।
পরে নাহিদ রানার বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান বাবর আজম। শূন্যতে জীবন পাওয়া পাকিস্তান তারকা করেন ২২ রান। স্বাগতিকরা ৬৬ রানে হারায় তৃতীয় উইকেট। সাকিব আল হাসান আঘাত হানেন ১ রানে থাকা সৌদ শাকিলকে, ৬৭ রানের সময়।
থিতু হয়ে যাওয়া আবদুল্লাহ শফিক ৩৭ রান করে সাকিব আল হাসানের বলে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন। পরের ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরেন আগা সালমান।
ড্রয়ের দিকে আগাতে থাকা ম্যাচে তখন দেখা দেয় ফলের আশা। দলীয় বোলিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় শক্তভাবে। মধ্যাহ্ন বিরতির পর মিরাজের করা বলটি ঠেকাতে গিয়ে আউট হন শাহিন আফ্রিদি। এলবিডব্লু হয়ে ফিরে যান তিনি। ১১১ রানে সপ্তম উইকেট হারায় পাকিস্তান।
পরে ইনিংসে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নাসিমের সামনে ফাঁদ পেতে হাওয়ায় ভাসিয়ে একের পর এক বল করছিলেন। সেই বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন নাসিম। ১১৮ রানে ৮ উইকেট হারালে একাই লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন রিজওয়ান।
বাধা হয়ে দাঁড়ানো রিজওয়ানকে বোল্ড করে ফেরান মিরাজ। ৮০ বলে ৫১ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। এটি মিরাজের তৃতীয় শিকার। পরে শূন্য রানে মোহাম্মদ আলীকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন মিরাজ।
বাংলাদেশের হয়ে মিরাজ নেন ৪ উইকেট এবং সাকিব ৩টি। একটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদ।







