চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের বাঁচামরার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সংগ্রহটা বড় করতে পারেনি বাংলাদেশ। বল হাতে শুরুটা দারুণ করলেও টাইগারদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান রাচিন রবীন্দ্র। তার সেঞ্চুরি ও টম লাথামের ফিফটিতে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয়টিতেও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় কিউইদের। তাতে গ্রুপ ‘এ’ থেকে সেমিতে খেলা নিশ্চিত হয়েছে তাদের। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারতও। চার পয়েন্ট নিয়ে তাদেরও সেমিতে খেলা নিশ্চিত। বাংলাদেশের পাশাপাশি গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে টানা দুই ম্যাচ হারা পাকিস্তান।
আগামী ২ মার্চ গ্রুপসেরার লড়াইয়ে দুবাইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। তার আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
রাওয়ালপিন্ডিতে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৩৬ রান তোলে টিম টাইগার্স। জবাবে নেমে ৪৬.১ ওভারে জয়ের বন্দরে নোঙর করে কিউইবাহিনী।
নিউজিল্যান্ডকে রানতাড়ায় পাঠিয়ে প্রথম ওভারেই সাফল্য এনে তাসকিন। কোনো রান তোলার আগেই উইল ইয়ংকে ফেরান। ৩.৩ ওভারে উইলিয়ামসনকে ফেরান নাহিদ রানা। ১৫ রানে দুই ব্যাটারকে হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে রাচিন ও ডেভন কনওয়ে মিলে ৫৭ রান যোগ করেন। ১৫.৪ ওভারে দলীয় ৭২ রানে কনওয়েকে ফেরান মোস্তাফিজ। ৪৫ বলে ৩০ রান করেন কনওয়ে।
চতুর্থ উইকেটে টম লাথামকে নিয়ে ১৩৬ বলে ১২৯ রানের জুটি গড়েন রাচিন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজের প্রথম ম্যাচে নেমেই ৯৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রাচিন। ৩৮.২ ওভারে দলীয় ২০১ রানে রাচিনের উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। রিশাদের বলে পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে ক্যাচ দেন। ১২টি চার ও এক ছক্কায় ১০৫ বলে ১১২ রান করেন।
রাচিন ফেরার পর ফিফটি তুলে নেন টম লাথাম। ৭১ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল তিনটি চারের মার। ৪১.৪ ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের থ্রোতে রানআউট হয়ে ফিরে যান লাথাম। ৭৬ বলে ৫৫ রান করেন কিউই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
পরে মাইকেল ব্রেসওয়েলকে নিয়ে কিউইদের জয় নিশ্চিত করেন গ্লেন ফিলিপস। ২৮ বলে ২১ রান করেন ফিলিপস। ১৩ বলে ১০ রান করেন ব্রেসওয়েল।
টাইগারদের হয়ে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে তানজিদ ও শান্ত ওপেনিংয়ে আসেন। উদ্বোধনীতে দুজনে ৪৫ রান তোলেন। ৮.২ ওভারে তানজিদ ফিরে যান ২৪ বলে ২৪ রান করে। শান্ত একপ্রান্ত আগলে রাখলেও দ্রুতই উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
দলীয় ৬৪ রানে মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরে যান ১৪ বলে ১৩ রানে। ৯৭ রানে ফিরে যান তাওহীদ হৃদয়। ২৪ বলে ৭ রান করেন ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার। এরপর দ্রুতই ফিরে যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মুশফিক ৫ বলে ২ এবং মাহমুদউল্লাহ ১৪ বলে ৪ রান করেন।
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে জাকের আলিকে নিয়ে ৪৫ রান যোগ করেন শান্ত। ৭১ বলে ফিফটিও পূর্ণ করেন টাইগার অধিনায়ক। ৩৭.২ ওভারে শান্ত ফিরে যান। ৯ চারে ১১০ বলে ৭৭ রান করেন। সপ্তম উইকেট জুটিতে জাকের ও রিশাদ হোসেন যোগ করেন ৩৫ রান। ৪৩.১ ওভারে দলীয় ১৯৬ রানে রিশাদ ফিরে যান। দুটি চার ও এক ছক্কায় ২৫ বলে ২৬ রান করেন টাইগার অলরাউন্ডার।
তাসকিনকে নিয়ে রান তুলছিলেন জাকের আলি। তবে ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ২৩১ রানে রানআউট হয়ে যান জাকের। তিন চার ও এক ছক্কায় ৫৫ বলে ৪৫ রান করেন। ৪৯.২ ওভারে দলীয় ২৩৬ রানে তাসকিন ফিরে যান ২০ বলে ১০ রান করে। পরে মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানা কোনো রান যোগ করতে না পারলেও নির্ধারিত ওভার শেষ করেন।
কিউই বোলার মাইকেল ব্রেসওয়েল ওয়ানডেতে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন। ১০ ওভারে ২৬ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া উইলিয়াম ও’রোর্ক ২টি এবং ম্যাট হেনরি ও কাইল জেমিসন একটি করে উইকেট নেন।







