আবহাওয়া পূর্বাভাসে চেন্নাইয়ে বৃষ্টির শঙ্কার কথা জানা গেছিল আগেই। বৃষ্টি না নামলেও তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় দেখা গেছে আলোকস্বল্পতা। তাতে বাংলাদেশ-ভারতের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়।
৩৭.২ ওভার খেলার পর হঠাৎ খেলা থেমে যায়। রোহিত-শান্তদের সাথে কথা বলতে দেখা যায় আম্পায়ারদের। পরে খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে যান। গ্রাউন্ডসম্যানরা এসে পিচ কাভার দিয়ে ডেকে দেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর দিনের খেলার ইতি টানেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা। দিনের খেলায় আরও ৯.৪ ওভার বাকী ছিল।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ৪ উইকেটে ১৫৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য এখনও ৩৫৭ রান করতে হবে টাইগারদের। নাজমুল হোসেন শান্ত ৫১ রানে ও সাকিব আল হাসান ৫ রানে চতুর্থ দিন শুরু করবেন।
চেন্নাইয়ে এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে টসে জিতে ভারতকে আগে ব্যাটে পাঠায় বাংলাদেশ। রবীচন্দ্রন অশ্বিনের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রান তোলে স্বাগতিক দল। জবাবে নেমে ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
বাংলাদেশকে ফলো-অন করানোর সুযোগ থাকলেও তা না করিয়ে ২২৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নামে ভারত। ৪ উইকেটে ২৮৭ রান করে বাংলাদেশের সামনে ৫১৫ রানের চ্যালেঞ্জ দাঁড় করায় রোহিত শর্মার দল।
ভারতের দেয়া ৫১৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়েছিল। তবে অল্পসময়ের ব্যবধানে দুই ওপেনারই সাজঘরে ফিরে গেছেন। ৬২ রানে জাকির হাসানকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন জাসপ্রীত বুমরাহ। ৩৩ রান করেন টাইগার ওপেনার। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম ফিরে যান ৮৬ রানে। অশ্বিনের বলে শুভমান গিলের হাতে ক্যাচ দেন। ৬৮ বলে ৩৫ রান করেন।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর মুমিনুল হককে নিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত হাল ধরেছিলেন। তবে অশ্বিনের জোড়া আঘাতে ফিরে গেছেন মুমিনুল ও মুশফিকুর রহিম। ১৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফের চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
৩০তম ওভারের শেষ বলে অশ্বিনের ইনসুইং বুঝে উঠতে পারেননি মুমিনুল বোল্ড হয়ে ফিরে যান। ২৪ বলে ২৩ রান করেন টাইগার ব্যাটার। পাঁচে নামা মুশফিকুর রহিমের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। ৩৪তম ওভারে অশ্বিনের বল মিডঅফ দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন মুশফিক। তবে সেখানে থাকা ফিল্ডার লোকেশ রাহুলের তালুবন্ধী হয়ে ফিরে যান। একটি করে চার ও ছক্কায় ১১ বলে ১৩ রান করেন মি. ডিফেন্ডেবল খ্যাত এই ব্যাটার।
সাকিবকে সঙ্গী করে ফিফটি পূর্ণ করে নেন শান্ত। টেস্টে শান্ত’র চতুর্থ ফিফটি এটি। ৫৫ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কার মার।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে দিনের একমাত্র সাফল্যটি পায় বাংলাদেশ। রিশভ পান্টকে দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে পাঠান মেহেদী হাসান মিরাজ। সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটার।
ব্যক্তিগত ১০৯ রানের মাথায় মিরাজের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে সোজা ব্যাটে বাউন্ডারি মারতে চেয়েছিলেন পান্ট। কিন্তু দ্রুতগতিতে আসা বলটি সাহসিকতার সঙ্গে তালুবন্দী করে ফেলেন মিরাজ।
পান্ট আউট হওয়ার পর সেঞ্চুরি তুলে নেন শুভমান গিল। এই জুটির দুই সেঞ্চুরিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ২৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। গিল ১১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন, তাকে সঙ্গ দেয়া লোকেশ রাহুল করেন ২২ রান।








