বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) তাদের নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দিয়েছে। এতে জহিরুল ইসলাম কোচিকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নুরুল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএফএস-এর পক্ষে জানানো হয়, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত “জাতীয় ফিল্ম সোসাইটি সম্মেলন ২০২৫’-এ অধ্যাপক আবদুস সেলিম এই ঘোষণা দেন। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪০টি ফিল্ম সোসাইটির প্রতিনিধি সরাসরি এবং আরও ৫টি সংগঠন ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে।
আয়োজকরা জানান, সম্মেলনে বিভিন্ন ফিল্ম সোসাইটির চলমান কার্যক্রমের হালনাগাদ তুলে ধরা হয় এবং গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয় কিছু জটিল চ্যালেঞ্জ নিয়ে—যেমন দর্শকসংখ্যার ক্রমহ্রাস, অর্থনৈতিক সংকট এবং মানসম্মত চলচ্চিত্রের অভাব।
তবে সম্মেলনের আলোচনায় শুধুই হতাশার চিত্র ছিল না। অংশগ্রহণকারীরা আলোকপাত করেন তৃণমূলে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি গড়ে তোলার সম্ভাবনা, নতুন প্রজন্মের দর্শক গঠনের উদ্যোগ এবং উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির সুযোগের দিকেও।
নতুন নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক আবদুস সেলিম বলেন, “ফেডারেশন যেন আরও উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং আঞ্চলিক চলচ্চিত্র সংগঠনগুলোর দাবিদাওয়ার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে সভাপতি জহিরুল ইসলাম কোচি বলেন, “আজকের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আমাদের চলচ্চিত্র আন্দোলনকে নতুনভাবে সংগঠিত করতে হবে এবং তা করতে হবে সময়োপযোগী চিন্তা ও বাস্তবতার আলোকে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা তৃণমূলের কণ্ঠস্বর শুনেছি—এবং সেই ভাবনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ বলেন, “এই সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের সব চলচ্চিত্র সংগঠনকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করা এবং তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে গভীরভাবে জানা। আগামী দিনে ফেডারেশন তাদের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলো চলচ্চিত্র আন্দোলনের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেয় যাতে ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলনের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করা যায়।







