যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বসা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জরুরি সভা শুরুর খানিক বাদেই চলে আসে সিদ্ধান্ত, দীর্ঘ একযুগ পর বোর্ড সভাপতির চেয়ারটা কিছুক্ষণের জন্য ফাঁকা হয় বুধবার। পদত্যাগ করেন নাজমুল হাসান পাপন। সেটির পরপরই বিসিবির নতুন সভাপতি করা হয় ফারুক আহমেদকে।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি হচ্ছেন এমন আলোচনা ছিল কদিন ধরেই। গত ১৮ আগস্ট ফারুক আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি পদে দায়িত্বভার গ্রহণের প্রস্তাব পেয়েছেন।
এদিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বসা সভায়ও যোগ দিয়েছেন ফারুক। নাজমুলের পদত্যাগের খানিকের মধ্যেই তার সভাপতি হওয়া ঘোষণা করা হয়। তিনি বিসিবিতে প্রধান নির্বাচক হিসেবে স্মরণীয় কাজ করেছিলেন। ২০১৬ সালের জুনে বিতর্কিত দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নির্বাচন–প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যানে পদত্যাগ করেছিলেন।
বুধবার পাকিস্তানে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যখন টেস্টের লড়াইয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায়, ঠিক সেসময়ে সচিবালয়ে বসে সভা। নাজমুল হাসানের পদত্যাগের মঞ্চ হবে এই সভা, সেটি আগেই খবরে ছিল।
২০১২ সালে সরকার থেকে সভাপতি মনোনীত এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর সভাপতির আসনে বসেছিলেন নাজমুল। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য ও ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন তিনি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে রাজনৈতিক পালাবদলে সংকটকালীন সময় পার করছিল বিসিবিও। ছিল না কোনো অভিভাবক। বেশিরভাগ বোর্ড পরিচালকের মতো আত্মগোপনে চলে যান সদ্য সাবেক হওয়া নাজমুল। অবশ্য আত্মগোপনে থেকেই বিসিবি ছাড়তে রাজি বলে জানিয়ে রাখেন তিনি।
রোববার বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, জটিল পরিস্থিতিতে বৈধতার ভিত্তিতে নতুন করে বোর্ড গঠনের চেষ্টা চলছে।
আইসিসির আইনের মধ্যে থেকে বিসিবির গঠনতন্ত্র মেনে পুনর্গঠন করা হচ্ছে বোর্ড। খেলোয়াড় কোটায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে বিসিবির পরিচালক করে, এবং পরিচালকদের ভোটের মাধ্যমে সভাপতির দায়িত্বভার তুলে দেয়া হল ফারুকের কাঁধে।








