বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভিত্তি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই গড়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সবশেষ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্প্রতি ঐতিহাসিক চীন সফরকে কেন্দ্র করে বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএফএ)।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ৫০ বছরে চীন যেভাবে উন্নতি ও অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা সত্যিই ‘ম্যাজিক্যাল’। বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ও বিএনপির সঙ্গে সিপিসির যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল।
চীনকে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ চীনের মতো একটি শক্তিশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। একইসঙ্গে প্রতিবেশী ভারত ও ইউরোপের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফর করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উন্নত কারিগরি শিক্ষা নিতে বিদেশ যেতে না হয়। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরশক্তি ও প্রযুক্তি খাতেও চীনের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান ফখরুল।
বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের এই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক কেউ টেনে ছিঁড়ে ফেলতে পারবে না। বিশ্বে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে চীনকে প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ ছাড়াও ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।









