রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির প্রভাবে সকাল থেকেই নগরজুড়ে যানবাহনের সংকট, ফাঁকা সড়ক, গণপরিবহনে অচলাবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র দেখা গিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রচার শুরু করে দলটির নেতারা। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এক ভিডিও বার্তায় ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং ১৩ নভেম্বর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে ‘লকডাউন’ পালনের আহ্বান জানান।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচিকে ‘অবৈধ ও উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীতে তৎপরতা বাড়িয়েছে। সকাল থেকে ফার্মগেট, শাহবাগ, মতিঝিল, গুলিস্তান, মগবাজার, সায়েন্সল্যাব, যাত্রাবাড়ী, উত্তরাসহ প্রায় সব এলাকায় গণপরিবহন ছিল সীমিত। কোথাও বাসের দেখা মেলেনি, কোথাও বা যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।
রাজধানীর ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “আজ মূল সমস্যা যানজট নয়, বরং গাড়ির অভাব। সাধারণ দিনের তুলনায় আজ অন্তত ৬০ শতাংশ কম গণপরিবহন রাস্তায় নেমেছে।” তিনি বলেন, চালক ও হেলপাররা সংঘর্ষ বা ভাঙচুরের আশঙ্কায় গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দূরপাল্লার বাস চলাচলেও। গাবতলী বাস টার্মিনাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই প্রায় ফাঁকা। যাত্রী কম থাকায় নির্ধারিত সময়ে অনেক বাস ছাড়তে পারেনি।
গোল্ডেন লাইনের কাউন্টারম্যান আলী আজগর বলেন, “আজ যাত্রী অনেক কম। সকাল ৮টার মধ্যে সাধারণত অন্তত ৫টি বাস ছাড়ে, সেখানে মাত্র ২টি বাসে যাত্রী পেয়েছি– দুটোই ফরিদপুরের। বরিশাল, সাতক্ষীরা লাইনে কোনো যাত্রী পাইনি।”
সোহাগ পরিবহনের কর্মী সজিব জানান, “যশোরগামী সকাল সাড়ে ৯টার গাড়ি বন্ধ রেখেছি, যাত্রী নেই। সকালের দুইটি গাড়ি ছাড়লেও চার-পাঁচজনের বেশি যাত্রী পাইনি।”

রংপুরগামী যাত্রী সুলায়মান হোসেন বলেন, “যাত্রী কম থাকায় সকালের গাড়ি ছাড়েনি। দুই ঘণ্টা ধরে টার্মিনালে বসে আছি।”
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নীরবতা বিরাজ করলেও মোড়ে মোড়ে ছিল পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির কড়া উপস্থিতি। কোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংসতা ঠেকাতে সকাল থেকেই তারা টহল জোরদার করেছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অফিসগামী কর্মী ও শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলের এক অভিভাবক জানান, “পরিস্থিতি অনিশ্চিত মনে হওয়ায় সন্তানকে স্কুলে পাঠাইনি।” মতিঝিলের ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান বলেন, “বাস না পেয়ে পায়ে হেঁটে অফিসে গেছি। সিএনজির ভাড়া দ্বিগুণ নিচ্ছে।”
এদিকে, লকডাউনের ডাকের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের ঝটিকা মিছিল, টায়ার পোড়ানো ও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েকদিনে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট দাবিতে রাজপথে রয়েছে। বিএনপি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না দিলেও যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে।








