কুমিল্লার তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুল ইসলাম ওরফে সোহেল শিকদার (৪০)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোহেল শিকদার তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সে তিনটি হত্যাসহ ৯ মামলার আসামী।
শনিবার ৬ মে দিনে ও রাতে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, ঢাকার রায়েরবাগ ও মিরপুরের কালশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে বলে র্যাব জানায়।
এ মামলার আরও দুই আসামী মো: ইসমাইল হোসেন (৩৬), মো: শাহআলম ওরফে পা কাটা আলম (৩৬)কেও গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মোঃ ইসমাইল হোসেন দুই হত্যাসহ তিন মামলার আসামী এবং শাহ আলম একটি হত্যাসহ ১০ মামলার আসামী।
শাহীনুল ইসলাম ওরফে সোহেল শিকদার মনাইরকান্দির আক্তার হোসেন শিকদারের ছেলে। আর মো: ইসমাইল হোসেন জিয়ারকান্দির খুরশিদ মিয়ার ছেলে, মো: শাহআলম ওরফে পা কাটা আলম দাউদকান্দির গোপচর গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।
বোরকা পরে হত্যা মিশনে অংশ নিলেও হত্যার পর কিছু দুর গিয়ে বোরকা ফেলে দেওয়ায় সিসি ফুটেজে ঘাতকের অবয়ব ধরা পড়ে। র্যাব সে সব ফুটেজ বিশ্লেষন করে নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে বলে জানায়।
জামাল হত্যা মামলায় ৯ আসামীর মধ্যে তিন জনকে র্যাব গ্রেপ্তার করতে পারলেও এক নম্বর আসামী তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের মো: সুজন ও ২ নম্বর আসামী আরিফ হোসেন নেপালে, ৫ নম্বর আসামী বাদল দুবাইতে, ৬ নম্বর আসামী শাকিল ভারতে, ৮ নম্বর আসামী অলি হাসান সৌদি আরবে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। মামলার ৯ নম্বর আসামী কালা মনির এখনো দেশেই আত্মগোপনে রয়েছে।
জামাল হত্যা মামলার বেশিরভাগ আসামিই এর আগে কুমিল্লার গৌরীপুর বাজারে খুন হওয়া জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসাইন হত্যা মামলার আসামি।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে দাউদকান্দির গৌরীপুর পশ্চিম বাজার ঈদগাহ এলাকার মসজিদ গলিতে জামাল হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে বোরকা পরে আসা দুর্বৃত্তরা।
র্যাব জানায়, ৩০ এপ্রিল রাত আনুমানিক সোয়া ৯টায় ৩ জন বোরকা পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানাধীন গৌরীপুর পশ্চিম বাজার সংলগ্ন মসজিদের পাশে একটি দোকানের সামনে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় জামাল হোসেনের উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই সময় বোরকা পরিহিত হামলাকারীরা জামালের উপর এলোপাথাড়ি বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এরপর জামাল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত জামালকে উপস্থিত লোকজন গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে পরিবার আরও নিশ্চিতের জন্য জামালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকও তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকান্ডের এই ঘটনাটি দেশব্যাপী বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
র্যাব-১১ অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, তথ্য উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মাঠ পর্যায় হতে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ০৬ মে দিনে ও রাতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম জেলার আগ্রাবাদ এলাকা, ঢাকা জেলার রায়েরবাগ এলাকা ও কালশী, মিরপুর এলাকা হতে এই তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তানভীর মাহমুদ পাশা আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামাল হত্যার বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা সংঘঠিত হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে নিহতের স্ত্রী পপি আক্তারের করা মামলার ১৭ আসামির মধ্যে রয়েছেন- তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের মো. সুজন, আরিফ হোসেন, ইসমাইল হোসেন, মনাইরকান্দি গ্রামের শাহিনুল ইসলাম ওরফে সোহেল শিকদার, জিয়ারকান্দি গ্রামের বাদল, শাকিল, দাউদকান্দির গোপচর গ্রামের শাহ আলম, তিতাসের জিয়ারকান্দি গ্রামের অলি হাসান ও কালা মনির।








