আন্তর্জাতিক

নেপালে হিমলুং হিমাল বেস ক্যাম্পে তুষারধস, নিখোঁজ ১০

নেপালে হিমলুং হিমাল বেস ক্যাম্পে তুষারধস, নিখোঁজ ১০

ছবি: সংগৃহীত

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধসে অন্তত ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। রোববার অভিযানের আয়োজকেরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

অভিযানের আয়োজক মিংমা গ্যালজে শেরপা জানান, নিখোঁজদের মধ্যে তার দলের রান্নার কাজে থাকা দুই কর্মীও রয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার সকালে তুষারধসটি আঘাত হানে।

শেরপা জানান, গত সপ্তাহে আবহাওয়ার সতর্কতা জারির পর অভিযানের দল ও দড়ি স্থাপনের কাজে থাকা দলগুলো পাহাড়ের ঢাল থেকে নিরাপদে সরে গিয়েছিল। তবে কয়েকজন সেখানে থেকে যান।

এ অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে ভারী তুষারপাত হচ্ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পর্বতারোহীদের অনেকেই শরৎকালীন অভিযান থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন। রোববারের তুষারধসে নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিভিন্ন অভিযানের দলের সদস্য বলে জানা গেছে।

মানাং জেলায় অবস্থিত হিমলুং হিমালের উচ্চতা ৭ হাজার ১২৬ মিটার। সেখানে হেলিকপ্টারে যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত অনুমতির প্রয়োজন হয়। ফলে দুর্গম এই পর্বত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। উচ্চতায় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান এমন পর্বতারোহীদের কাছে হিমলুং হিমাল একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।

বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া একটি আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভারী তুষারপাত এবং বিভিন্ন পাহাড় ও সমতল এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এরই মধ্যে শুক্রবার থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি সড়কে যান চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ট্রেকার ও পর্বতারোহীদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ। দেশটির পর্যটন বিভাগও সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

এর আগে গত মাসে রাসুয়া এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি নিখোঁজ হন। ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জনপদগুলো বন্যায় ভেসে যায়। এতে দেশটির পর্যটন খাতও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

এরপর থেকে টানা বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে নেপালের বিভিন্ন ট্রেকিং রুটে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মানাসলু ও ধৌলাগিরি পর্বতে কয়েকটি বড় অভিযানও বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে আগস্টে পাকিস্তানের ব্রড পিক পর্বতে তুষারধসে নিহত নেপালের তিন অভিজ্ঞ পর্বতারোহীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তারা হলেন কিলি পেম্বা শেরপা, যিনি কিলু নামেও পরিচিত, গ্যালু শেরপা ও নিমা শেরপা।

গত ৩০ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্রড পিকের ক্যাম্প-২ ও ক্যাম্প-৩-এর মধ্যবর্তী প্রায় ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতায় তুষারধসে ১০ সদস্যের আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী দলটি নিহত হয়। ৮ হাজার ৫১ মিটার উঁচু ব্রড পিক বিশ্বের ১২তম সর্বোচ্চ পর্বত। নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজা, পুর বাহাদুর গুরুং, নাওয়াং থিনদু শেরপা, ওমানের নাধিরা আল হারথি, চীনের ওয়াং ঝং, পাকিস্তানের গাইড সোহেল সাখি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ম্যালরি গেইসও ছিলেন।

বিষয়:তুষারধসনিখোঁজ ১০নেপালহিমলুং হিমাল বেস ক্যাম্প
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…