স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর-লুটের ঘটনায় পুলিশের অবহেলা ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (সংগৃহীত)।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় পুলিশের অবহেলা ছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দুস্কৃতিকারীরা জায়গা দখল করতে গিয়েছিল। এ ঘটনায় সংক্ষিপ্ত তদন্ত হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি এ ঘটনায় ওসির দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তদন্তের পর শাহ আলী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং রুজু করা হবে। এ ব্যাপারে আমি পুলিশ কমিশনারকে স্পট ভিজিটের জন্য পাঠিয়েছি। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, দুর্বৃত্তরা যে দলের হোক আমলে নেওয়া হবে না। যারা অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এ সময় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নতুন সৃজনশীল স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’-এ হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভাঙচুর হয়েছে। আমি এটা ভিডিওতে দেখলাম। এই বিষয়ে তার পক্ষ থেকেও কোনো মামলা করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৯৯৯-এ টেলিফোন পাওয়ার পরে তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। কিছু আলামত উদ্ধার হয়েছে। গুলির খোসা-টোসা পাওয়া গেছে। আর কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এই বিষয়ে যেহেতু বিষয়টা তদন্তাধীন এবং মামলা দায়ের হবে বলে জেনেছি, তখন সে বিষয়ে অগ্রগতি পরে জানানো যাবে।’
শাহ আলী থানার ওসির বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বদলি চুড়ান্ত নয়। আপনারা জানেন ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। ওসির সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্পর্ক থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ পাওয়ায় মামলা করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জাসদ কার্যালয় থেকে প্রায় দেড়শ মানুষকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কোনো অনুমতি না নিয়েই আলাপ আলোচনা করতে পারে। তবে আমাদের কাছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ছিল, জাসদ কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বৈঠক করছিল এবং তারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। সে জন্য জাসদ কার্যালয় থেকে প্রায় দেড়শ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ২৭ জন বাদে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আটক করা হয়নি।







