সাইফ আলী খানের গাড়ির শখ পুরনো! বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মডেলের গাড়ি কেনার শখ তার। সে হিসেবে বাড়ি ভর্তি রীতিমত মূল্যবান সব গাড়ি! অথচ বুধবার রাতে যখন তিনি ছুড়িকাঘাতে রক্তাক্ত, বিপর্যস্ত- তখন তাকে হাসপাতাল যেতে হলো অটোতে করে!
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে,রক্তাক্ত সাইফকে অটোতে করেই হাসপাতালে নিয়ে যান তার বড় ছেলে ইব্রাহিম আলী খান। বাড়িতে বিলাসবহুল গাড়ি থাকা সত্ত্বেও কেন নবাবকে অটোয় করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল, এ নিয়েও উঠে প্রচুর প্রশ্ন।
এমন প্রশ্ন নিয়ে যখন সর্বোত্র চর্চা, তখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন সেই অটোচালক। যিনি বলিউড সুপারস্টারকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন বিনা ভাড়ায়।
সেই অটো চালকের নাম ভজন সিং রানা। সেদিন রাতের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি জানান, “বান্দ্রার রাস্তায় গভীর রাতে আমি তখন তীব্র গতিতে অটো ছুটিয়েছি। আচমকাই এক গেটের সামনে থেকে মহিলার চিৎকার কানে আসে। তিনি আমাকে সাহায্যের জন্য কাকুতি মিনতি করা শুরু করেন। প্রথমে তো আমি বুঝতেই পারিনি যে, সেটা সাইফ আলী খানের বাড়ি। আমি ভেবেছি, চারদিকে যেমন চুরি ছিনতাইয়ে হেনস্তার ঘটনা ঘটে, তেমনই কিছু হবে। তবে পরে দেখি, গুরুতম জখম অবস্থায় সাইফ হেঁটে আমার অটোতে উঠে বসলেন।”

বর্ণনা দিয়ে ভজন এসময় বলেন,“একটা বাচ্চা এবং আরেকজন সঙ্গে ছিলেন। অটোয় উঠেই সাইফ প্রথমেই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- ‘হাসপাতালে পৌঁছুতে কতক্ষণ লাগবে?’ আমরা ৮-১০ মিনিটের মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছে যাই। তার ঘাড়, পিঠ থেকে রক্তবন্যা বইছে। সাদা পাঞ্জাবি রক্তে ভিজে লাল হয়ে গিয়েছিলো ততক্ষণে। অনেকটা রক্তক্ষরণও হয়ে গিয়েছিল। ওই পরিস্থিতি দেখে আমি ভাড়া নিইনি। তবে সাইফ আলী খানকে দুঃসময়ে সাহায্য করতে পেরে আমার ভালো লেগেছে।”
সেই অটোচালক এখন মুম্বাইয়ের বান্দ্রা লাইনে বেশ ফেমাস। অনেকেই তাকে এই ঘটনার জন্য সাক্ষাৎ ‘ঈশ্বরের দূত’ বলে মনে করছেন।








