আসরজুড়ে দুর্দান্ত করা ভারত ধুঁকছে ফাইনালের মঞ্চে। শুরুটা ভালো করলেও স্বাগতিকদের চেপে ধরেছে অস্ট্রেলিয়া। ফিফটি করে কোহলির ফেরার পর লোকেশ রাহুল পেয়েছেন ফিফটি, তবে অসময়ে ফিরে গেছেন তিনিও। দুইশ রান পেরিয়ে ছয় ব্যাটার হারিয়ে চাপে রোহিত শর্মার দল।
শিরোপার মঞ্চে ব্যাট হাতে ধীরগতিতে রান তুলছেন লোকেশ। ৩৫তম ওভারের পঞ্চম বলে ফিফটি তুলে নেন ভারতের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ৮৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করা ইনিংসে ছিল কেবল একটি চারের মার। শেষঅবধি ১০৭ বলে ৬৬ রান করে স্টার্কের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।
তার আগে ৩৬তম ওভারের পঞ্চম বলে পঞ্চম উইকেট হারায় স্বাগতিক দল। হ্যাজেলউডের অফস্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে খোঁচা দেন রবীন্দ্র জাদেজা। ক্যাচ লুফে নেন জশ ইংলিশ। ২২ বলে ৯ রান করে যান ভারতের তারকা অলরাউন্ডার।
পরে সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে হাল ধরেন লোকেশ। সেটিও দীর্ঘ করতে পারেননি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৩ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৮ রান তুলেছে ভারত। ৪ বলে ৪ রানে ক্রিজে আছেন মোহাম্মদ শামি। সঙ্গ দিচ্ছেন সূর্যকুমার যাদব, ১২ বলে ৮ রানে।
আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে রোববার অস্ট্রেলিয়া টসে জিতে ব্যাটে পাঠায় স্বাগতিক ভারতকে। নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছিল ভারতের। প্রথম ওভারে ৩ রান এলেও হ্যাজেলউডের পরের ওভারে কাভার দিয়ে চার মেরে দেন রোহিত। পরের বলে আরও একটি চার মেরে চাপ থেকে বেরিয়ে আসেন অধিনায়ক। রোহিতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ছুটতে শুরু করে স্বাগতিক দল।
ওপেনিং জুটি ভাঙে ৩০ রানে। মিচেল স্টার্কের করা শর্ট লেংথের বলে রোহিতের মতো চড়াও হতে চেয়েছিলেন গিল। যেভাবে চেয়েছিলেন খেলতে পারেননি। গিলের পুল শটে বল যায় মিডঅনে থাকা অ্যাডাম জাম্পার হাতে। ৭ বলে ৪ রান আসে গিলের ব্যাটে।
অষ্টম ওভারে বল হাতে নেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ম্যাক্সওয়েলের উপর চড়াও হন রোহিত। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে লংঅনের উপর দিয়ে মারেন ছক্কা। পরের বলে কাট করে মারেন চার। এরপর আবারও কিছুটা সামনে এসে তুলে মারতে যান রোহিত। বল বাতাসে ভাসে। কাভারে থাকা ট্রাভিস হেড দারুণভাবে তালুবন্দি করেন বল। আউটের আগে ঝড়ো ইনিংসে ৩১ বলে ৪৭ রান করে যান রোহিত। ৪ চার ও ৩ ছয় মেরে যান অধিনায়ক।
রোহিত ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকানো শ্রেয়াস আয়ার। ১১তম ওভারে বলে আসে কামিন্স। অজি অধিনায়কের অফস্টাম্প বরাবর করা বলে খোঁচা দিয়ে বসেন আয়ার। বল তালুবন্দি করতে ভুল করেননি উইকেটরক্ষক জশ ইংলিশ। ৩ বলে ৪ রান করে ফিরে যান আয়ার।
কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। পরে লোকেশ রাহুলকে সঙ্গী করে হাল ধরেন বিরাট কোহলি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কোহলি তুলে নেন আসরের ষষ্ঠ ফিফটি, করেছেন তিনটি সেঞ্চুরিও। ২৬তম ওভারের প্রথম বলে জাম্পাকে লংঅনে ঠেলে ফিফটি পূর্ণ করেন কোহলি। ৫৬ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল চার চার।
অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি, কামিন্সের শিকার হয়ে ফিরে গেছেন সাজঘরে। ২৯তম ওভারের তৃতীয় বলে কামিন্সের ডেলিভারিতে ডিফেন্স করেছিলেন কোহলি। রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে মোকাবেলা করেও উইকেট বাঁচাতে পারেননি। ব্যাটে লেগে বল ভেতরে ঢুকে যায়, আঘাত হানে স্টাম্পে। ৬৩ বলে ৫৪ রানে ফিরে যান আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।







