এবার শেষের বাঁশি। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এক দলের হাতে শিরোপা ওঠার মধ্য দিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর্দা নামার বাঁশি বেজেছে। বিশ্বআসরের ত্রয়োদশ মহারণে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া টসে জিতে আগে ব্যাটে পাঠিয়েছে স্বাগতিক ভারতকে।
আহমেদাবাদে এক লাখ ৩০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে রোববার রোহিত শর্মার দলের বিপক্ষে নেমেছে প্যাট কামিন্সের দল। দিবারাত্রির ম্যাচে ব্যাট-বলের টুংটাং শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায়।
সেমিতে জেতা একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে ভারতও নেমেছে সেমির একাদশ নিয়েই।
পিচ রিপোর্টে রবি শাস্ত্রী বলেছেন, ম্যাচটি স্টেডিয়ামের পাঁচ নম্বর পিচে হতে চলেছে। ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচটিও হয়েছিল এই উইকেটে। পাকিস্তানের খেলা চলাকালীন রোলিংয়ের সময় কিছুটা চকচকে ছিল। তবে এখানে প্রথমে ব্যাটিং করে বোর্ডে ভালো রান সংগ্রহ করা সম্ভব। অন্যদিকে ম্যাথু হেইডেন মনে করছেন, এই উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে এক্স-ফ্যাক্টর হতে পারেন জাম্পা।
শেষের মহারণের দল দুটির মুখোমুখির দীর্ঘ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে জয়ের পাল্লা ভারি অস্ট্রেলিয়ার দিকে। ১৫০ ওয়ানডেতে অজিদের ৮৩ জয়ের বিপরীতে ভারত জিতেছে ৫৭টিতে। বাকি ১০ ম্যাচ শেষ হয়েছে ফল ছাড়াই। তবে টাই হয়নি কোনো ম্যাচ।
৫৭ জয়ের মধ্যে ৩৩ ম্যাচে ঘরের মাঠে জয় পেয়েছে ভারত। প্রতিপক্ষের মাঠে ১৪ ও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১০ জয় আছে আসরের স্বাগতিকদের ঝুলিতে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মাটিতে জিততে পেরেছে ৩৮ ম্যাচ। ৩৩ ম্যাচ ভারতের মাঠে এবং নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১২ জয় আছে প্যাট কামিন্সদের।
বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ১৩ ম্যাচে তাদের ৮ জয়ের বিপরীতে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের জয় ৫টিতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্কোর ৩৫২ ও ১২৫, অজিদের ৩৫৯ ও ১২৮ রান। বিশ্বকাপের ফাইনালে আগে একবার মুখোমুখি হয়েছিল দুদল, ২০০৩ আসরে যাতে জিতে শিরোপা নিয়ে ফিরেছিল অস্ট্রেলিয়া।
গ্রুপ পর্যায়ে ভারত ও সাউথ আফ্রিকার কাছে হারের পর টানা আট ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বিপরীতে লিগপর্বে প্রতিটি ম্যাচে রোহিতের দল নিজেদের মতো করেই সাজাতে পেরেছিল চিত্রনাট্য। এখন পর্যন্ত অপরাজিত আছে টিম ইন্ডিয়া। ভারত সেমিতে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে, অস্ট্রেলিয়া সাউথ আফ্রিকাকে।
ভারতের একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমন গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আয়ার, লোকেশ রাহুল, সূর্যকুমার যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, জাসপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, কুলদ্বীপ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: ট্রাভিস হেড, ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল স্টার্ক, স্টিভেন স্মিথ, মার্নাস লাবুশেন, জশ ইংলিশ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), অ্যাডাম জাম্পা, জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক।








