ভারতের অর্থনীতিতে চাপ কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় নিশ্চিত করতে দেশটির জনগণের প্রতি এক বছরের জন্য বিয়েতে স্বর্ণ না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি জ্বালানি সাশ্রয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং করোনা মহামারির সময়ের মতো ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চর্চা আবারও চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, রোববার (১০ মে) এক বক্তব্যে মোদি বলেন, করোনাকালে মানুষ যেভাবে অনলাইন মিটিং, ভিডিও কনফারেন্স ও বাড়িতে বসে কাজের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও সেই অভ্যাসে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। এটি এখন জাতীয় স্বার্থের জন্য জরুরি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় কমানো সবার দায়িত্ব।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ভারত সরকারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে মোদি ভারতীয়দের প্রতি অন্তত এক বছরের জন্য বিয়েতে স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ হ্রাস করা সম্ভব।
ভারতের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও স্বর্ণ দুটি পণ্যই বড় আমদানি নির্ভর খাত। দেশটি প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। একইসঙ্গে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ। এই দুই খাতে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেলে ভারতীয় রুপির ওপর চাপ তৈরি হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণ আমদানি কমাতে পারলে ডলারের ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। এর আগে অতিরিক্ত স্বর্ণ আমদানি নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার বিভিন্ন সময় আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ এবং গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প বিনিয়োগ উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল।
এছাড়া, মোদি ভোজ্যতেলের অপচয় কমানো এবং আমদানিনির্ভর রাসায়নিক সারের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান। তিনি প্রাকৃতিক কৃষির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এতে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, তেমনি পরিবেশ ও কৃষিজমিও সুরক্ষিত থাকবে।








