ঢাকায় বৃষ্টির মধ্যে যে মানুষটি হেঁটে বেড়াচ্ছে তিনি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় সূর্যের আলো দেখননি। এমনকি মেঘলা দিনেও বাইরের দৃশ্য না দেখতে পাওয়ার হাহাকার মেনে নিতে লড়াই করেছেন তিনি। মাইকেল চাকমা তার দীর্ঘ এই সময় আয়না ঘরে নির্যাতিতদের চিৎকার শুনে কাটিয়েছেন।
মাইকেল চাকমা অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে নিখোঁজ বলে তাকে গুম করে আয়না ঘরে রাখা হয় বছরের পর বছর। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচকরা সরকারবিরোধী কিছু বললে পরদিন তাদের আয়না ঘরের বন্দী বানানো হতো। যারা এতো দিন নির্দোষ অবস্থায় বন্দী ছিলেন তারা এখন মুক্তি পেয়েছেন।
বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, মাইকেল চাকমার বোন এতো দিন ভেবে এসেছেন তার ভাই আর এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই। গত ২ বছর আগে ভাইয়ের শেষকৃত্যও সম্পন্ন করেছে। তখনও তারা জানতেন না বেঁচে আছেন মাইকেল।
২০১৯ সালে এপ্রিল মাসে ঢাকায় মাইকেলকে একটি গাড়িতে তুলে জোর করে চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ভেবেছিলেন এখানেই সব শেষ।
পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের অধিকারের জন্য বছরের পর বছর লড়াই করার পর মাইকেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে সোচ্চার ছিলেন এবং এই অঞ্চলে সামরিক শাসনের অবসানের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন।
তাকে গুম করার একদিন পর রাজধানী ঢাকায় ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) কম্পাউন্ডের ভিতরে থাকা আয়না ঘরের ভিতরে এনে রাখা হয়।
মাইকেল বলেন, যে ছোট সেলটিতে তাকে রাখা হয়েছিল, সেখানে কোনও জানালা ছিল না এবং সূর্যের আলোও ছিল না। ছিল শুধু কেবল একটি ফ্যান। এক পর্যায়ে সময় এবং দিনের গণনা হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি অন্যান্য বন্দীদের কান্না শুনতে পেতাম, যদিও আমি তাদের দেখতে পেতাম না, তাদের চিৎকার ছিল ভয়ঙ্কর।
তিনি আরও বলেন, আয়না ঘরে বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হতো। তারা আমাকে একটা চেয়ারে বেঁধে খুব দ্রুত ঘোরাতেন। প্রায়ই তারা আমাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করার হুমকি দিত। তারা জিজ্ঞেস করেছিল আমি কেন শেখ হাসিনার সমালোচনা করছি।







