পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়াল বলেছেন, ৯ মে সহিংসতায় জড়িত অভিযুক্ত বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচার সুপ্রিম কোর্টকে না জানিয়ে সামরিক আদালতে শুরু করা যাবে না।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ছয় সদস্যের বেঞ্চ বেসামরিকদের সামরিক বিচারকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকটি আবেদনের শুনানি শুরু করলে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (২১ জুলাই) শুনানির সময় পিটিশনকারী আইতজাজ আহসানের আইনজীবী লতিফ খোসা বলেন, দেশে আজ যা কিছু ঘটছে তা সাবেক সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউল হকের আমলের ঘটনার প্রতিফলন।
আইনজীবী লতিফ খোসার কথায় দ্বিমত প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়াল বলেন, আপনি দেশের বর্তমান অবস্থাকে জিয়াউল হকের যুগের সাথে তুলনা করতে পারেন না। এটি জিয়াউল হকের যুগ না বা দেশে কোনো সামরিক আইনও জারি করা হয়নি। এমনকি যদি সামরিক আইনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, আমরা হস্তক্ষেপ করব, অবশ্যই এতে হস্তক্ষেপ করব।
পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক বিচার শুরুর আগে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো উচিত। এসসিকে না জানিয়ে সামরিক আদালতে আসামিদের বিচার শুরু করা যাবে না।
পূর্ববর্তী শুনানিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল (এজিপি) মনসুর উসমান আওয়ানকে ৯ মে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সামরিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সাজার বিরুদ্ধে আপিলের বিধান সম্পর্কে সরকারের কাছ থেকে নতুন নির্দেশনা চাওয়ার আরেকটি সুযোগ দিয়েছিল।
চলতি বছরের ৯ মে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তার স্ত্রী বুশরা বিবির সাথে মালিকানাধীন আল-কাদির ট্রাস্টের সাথে দুর্নীতির অভিযোগে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) দ্বারা ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর, তার দল বিক্ষোভের ডাক দেয়, যা অনেক জায়গায় সহিংস রূপ নেয়। এমন অবস্থায় প্রশাসন একটি ক্র্যাকডাউন অবলম্বন করে এবং সারা পাকিস্তান জুড়ে অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সহিংসতায় অভিযুক্ত বেসামরিক নাগরিকদের বিচার চলছে সামরিক আদালতে।










