ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে ক্রমবর্ধমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতি উপস্থাপন করেছে এবং তা সকলেরই নজরে আসছে। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার সম্ভাব্য বিপর্যয় বিপর্যয়কর পরিস্তিতিতে পরিণত হতে পারে যদি এই অবস্থা বজায় থাকে।
আজ (৯ অক্টোবর) বুধবার সংবাদ মাধ্যম ইউএনবি এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যেহেতু বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে, সেহেতু তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয় আর দূরের দুঃস্বপ্ন নয়।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ
ইউক্রেন এবং রাশিয়ার বিরোধ ফেব্রুয়ারী ২০২২ সাল থেকেই একটি পূর্ণ যুদ্ধে পরিণত হয়েছে রাশিয়ার আক্রমণের মধ্য দিয়ে। দেশটির রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের প্রাথমিক তিন দিনের আক্রমণ পরিকল্পনা রক্তাক্ত সংঘাতে পরিণত হয়েছে যা সমগ্র অঞ্চলকে ধ্বংস করেছে এবং হাজার হাজার প্রাণ ঝরেছে।
পুতিনের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তৃতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে, পশ্চিমা নেতারা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এই অবস্থায় যুদ্ধ থামার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং উভয় পক্ষই একটি মারাত্মক অচলাবস্থায় আটকে আছে।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত
মধ্যপ্রাচ্যে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক আক্রমণের পর ইসরায়েল গাজায় পূর্ণ সামরিক অভিযান শুরু করে। তখন থেকেই ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধবিরতির জন্য অসংখ্য আন্তর্জাতিক আহ্বান সত্ত্বেও এই যুদ্ধ চলমান। হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু মানবিক সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সুদানের গৃহযুদ্ধ
সুদান ইতিমধ্যে কয়েক দশকের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত। ২০২৩ সালের এপ্রিলে দেশটি আবারও নতুন করে গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হয়। সামরিক সরকার এবং আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেঙ্গে যাওয়ায় দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। এই সংঘাতই পরে ব্যাপক নৃশংসতায় পরিণত হয়। যার মধ্যে রয়েছে বেসামরিক ব্যক্তিদের ওপর হামলা, জাতিগত গোষ্ঠী এবং গণতন্ত্রপন্থী শক্তির তীব্র প্রতিরোধ। কোন সমাধান না থাকায় মিয়ানমারে বিভক্তি এবং সহিংসতার ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দার ঝড় তুলেছে।
ইথিওপিয়ার দ্বন্দ্ব
ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব টাইগ্রে অঞ্চলে থেকে শুরু হয়ে পুরো দেশটিকে ধ্বংস করে চলেছে। ২০২২ সালে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির পর ২০২৩ সালে আবার যুদ্ধ শুরু হয়। এতে একাধিক জাতিগত গোষ্ঠী জড়িত ছিল এবং এর ফলে একটি ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘাতের ফলে বাস্তুচ্যুতি, দুর্ভিক্ষ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। যা ইথিওপিয়াকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

হাইতির গ্যাং ভায়োলেন্স
হাইতি প্রচলিত যুদ্ধের দেশ না হলেও ২০২১ সালে রাষ্ট্রপতির হত্যার ঘটনার পর ব্যাপক গ্যাং সহিংসতার কারণে হিংসাত্মক বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়েছে দেশটি। এসব গ্যাং এখন দেশটির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। যার ফলে হাইতির জনগণ ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুত হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, হাইতি প্রায় নৈরাজ্যের মধ্যে রয়ে গেছে, পুনরুদ্ধারের কোন সুস্পষ্ট পথ নেই।
মেক্সিকোর মাদক সহিংসতা
মেক্সিকোতে চলমান সংঘাত মেক্সিকান ড্রাগ ওয়ার নামে পরিচিত। বিভিন্ন ড্রাগ কার্টেলের এই অপরাধী সংগঠনগুলো মানব পাচার, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বিস্তৃত হয়েছে। তারা দেশটির শান্তির পথকে ক্রমশ অধরা করে তুলেছে।
যুদ্ধ বন্ধে পদক্ষেপ
একাধিক অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এবং বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি থাকায় বিশ্ব একটি চরম মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব নেতাদের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, এই সংকট আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে কি না। তাদের নিষ্ক্রিয়তার পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে পারে, শুধুমাত্র সরাসরি জড়িত অঞ্চলগুলোর জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য।








