গত আট বছরে বলিউডে উল্লেখযোগ্যভাবে তার কাজ কমে গেছে- বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিশ্বখ্যাত সুরকার এ আর রহমান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এর পেছনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদল, এমনকি সাম্প্রদায়িক বিষয়ও থাকতে পারে! তবে বিষয়টি কখনো সরাসরি তার মুখের ওপর আসেনি বলেও জানান তিনি।
বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রহমান বলেন, বলিউডে দীর্ঘদিন কাজ করলেও নিজেকে অনেক বছর ‘আউটসাইডার’ হিসেবেই মনে হতো। সত্যজিৎ রায় নয়, বরং মণি রত্নমের সঙ্গে ‘রোজা’ (১৯৯২), ‘বোম্বে’ (১৯৯৫) ও ‘দিল সে..’ (১৯৯৮)–এই ত্রয়ী এবং রাম গোপাল ভার্মার ‘রঙ্গিলা’ (১৯৯৫)-এর মতো জনপ্রিয় কাজের পরও তিনি পুরোপুরি আপন হয়ে উঠতে পারেননি।
তার ভাষায়, “এই তিনটি ছবির পরও আমি একজন বাইরের মানুষই ছিলাম। কিন্তু সুভাষ ঘাইয়ের ‘তাল’ মুক্তির পর পরিস্থিতি বদলায়। অ্যালবামটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। উত্তর ভারতের মানুষের রক্তে এখনো ‘তাল’ বয়ে চলে।”
রহমান জানান, হিন্দি না জানার কারণে তিনি নিজেকে বলিউডের অংশ ভাবতে পারতেন না। “একজন তামিল মানুষের জন্য হিন্দি বলা কঠিন। কিন্তু সুভাষ ঘাই আমাকে বলেন, বলিউডে দীর্ঘদিন থাকতে চাইলে হিন্দি শিখতে হবে। তখন আমি হিন্দির পাশাপাশি উর্দুও শেখার সিদ্ধান্ত নিই, কারণ ষাট-সত্তরের দশকের হিন্দি সংগীতের মূল ভাষা ছিল উর্দু।”
পরে উর্দুর কাছাকাছি হওয়ায় আরবি ভাষাও শেখেন তিনি। পাশাপাশি পাঞ্জাবি সংগীতে আগ্রহ তৈরি হয় সুফি গায়ক সুখবিন্দর সিংয়ের মাধ্যমে। রহমান-সুখবিন্দর জুটির হাত ধরে জন্ম নেয় ‘ছাইয়া ছাইয়া’, ‘রামতা যোগী’ ও অস্কারজয়ী ‘জয় হো’র মতো কালজয়ী গান।
বলিউডে বৈষম্য ও পক্ষপাতের প্রশ্নে রহমান বলেন, “আগে কখনো সরাসরি কিছু টের পাইনি। কিন্তু গত আট বছরে ক্ষমতার একটি বড় পরিবর্তন হয়েছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে সৃজনশীল মানুষ নয়, বরং অ-সৃজনশীলদের হাতে ক্ষমতা। হয়তো এটি সাম্প্রদায়িক ব্যাপারও হতে পারে। তবে এসব আমার সামনে সরাসরি আসে না। গোপনে শোনা যায়- আমাকে বুক করা হয়েছিল, কিন্তু পরে মিউজিক কোম্পানি পাঁচজন অন্য সুরকারকে নিয়েছে।”
তবে কাজ না পাওয়াকে তিনি আক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না। রহমান বলেন, “আমি কাজ খুঁজে বেড়াই না। কাজ আমার কাছে আসবে- এই বিশ্বাস রাখি। এখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছি, সেটাই ভালো।”
এদিকে, কেন তিনি ডাব করা ছবির বদলে সরাসরি হিন্দি ছবিতে বেশি কাজ শুরু করেছিলেন, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন রহমান। তিনি জানান, ‘দিল সে’ বা ‘রোজা’র মতো ছবির সাফল্যের পর অনেক তামিল গানের হিন্দি অনুবাদ করা হচ্ছিল, যা ছিল দুর্বল মানের। “এতে মানুষ বলত, হিন্দি লিরিক্স খারাপ, তামিলটাই ভালো। বিষয়টি আমার কাছে অপমানজনক লেগেছিল। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, সরাসরি হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করব।” ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস









