বিনোদন

নাটকের বাজেট ৩০ লাখ, কী বললেন অপূর্ব?

ঢাকার নাটকে চেন্নাইয়ের ফাইট ডিরেক্টর, তিনি একটি মোবাইল ফোনে ব্যস্ত।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

ভিডিও প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য ও প্রাসঙ্গিক বর্ণনা নিচে পড়ুন।

নাটকের মান, গল্প এবং সব আয়োজন নিয়ে এই তো ক’বছর আগেও অনেকে প্রশ্ন তুলতেন। বলতেন, বাজেট সংকটের কারণে নাটকের গল্প হয়ে গেছে ড্রয়িং রুম বন্দী! সেই মিথ অনেকটা ভেঙে দিয়েছেন ছোটপর্দায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা তারকা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব।

এমনও হচ্ছে, এই অভিনেতার কিছু কিছু নাটকের বাজেট গিয়ে পৌঁছেছে ৩০ লাখের উপর! যে টাকায় কিছু কিছু সিনেমাও নির্মিত হয়েছে! আগে যেখানে নাটকে বাজেট সংকটের কারণে তাড়াহুড়োয় দুদিনে ক্যামেরা ক্লোজ হতো, সেখানে অপূর্ব এখন তার একটি নাটকের শুটিং করতে সময় নিচ্ছেন ১২/১৩ দিন। লোকেশনে ভিন্নতা আনতে ছুটে যাচ্ছেন টেকনাফ টু তেঁতুলিয়া!

বড় পরিসরে জাকারিয়া সৌখিনের পরিচালনায় গেল বছর তটিনীকে নিয়ে ‘পথে হলো দেরী’ করেছিলেন অপূর্ব। দেশের বিভিন্ন লোকেশনে নাটকটি শুটিং হয়েছিল। যারাই নাটকটি দেখেছেন তারাই ‘ওয়াও’ বলতে বাধ্য হয়েছেন! একই পরিচালকের নির্মাণে তাসনিয়া ফারিণের সঙ্গে ‘প্রিয় প্রজাপতি’ ও ‘ভুল থেকে ফুল’ দুটি নাটক করছেন অপূর্ব। এই কাজ দুটিও লার্জার স্কেলে করছেন বলে জানান বাংলা নাটকের ‘বড় ছেলে’।

নাটকের জন্য ৩০ লাখ বাজেটের ছবি, অপূর্ব ও তার সহশিল্পী. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

দুইলাখ থেকে ত্রিশ লাখ, নাটকের বাজেটের এই জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি কীভাবে সম্ভব হলো? চ্যানেল আই অনলাইনকে উত্তরটা দিতে গিয়ে বিনয়ী হয়ে অপূর্ব বললেন এভাবে,  এজন্য সবাইকে কষ্ট করতে হয়েছে। রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছে। সবাইকে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছিল। স্পেশালি আমি ও সৌখিন (জাকারিয়া সৌখিন) দুজনের জন্যই রিস্ক বেশি ছিল। কমিটমেন্ট ছিল আমরা যত কষ্টই হোক কাজগুলো করবো এবং সাকসেস হতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাটাই করেছি। একটি গল্প এবং স্ক্রিপ্ট যত্ন নিয়ে বলতে যা যা দরকার আমি সেগুলো প্রোপারলি দেয়ার চেষ্টা করেছি।

উদাহরণ দিয়ে অপূর্ব বলেন, স্ক্রিপ্টে যদি থাকে ছেলেটার তার প্রেমিকাকে এক হাজার গোলাপ দিয়ে প্রপোজ করছে বা তার মাকে পাঁচ হাজার শাড়ি উপহার দিচ্ছে। এই জিনিসটা আমরা শুটিং করতে গেলে হিতে বিপরীতে দেখি। কিন্তু আমি আসলে স্ক্রিপ্টে যা পড়েছি তাই দর্শকদের দেখানোর চেষ্টা করেছি। হুমায়ূন স্যারের ‘বহুব্রীহি’ নাটকে দেখেছি দুটো আইসক্রিমের গাড়ি নিয়ে একবার করে কামড় দিয়ে আইসক্রিম ফেলে দিচ্ছে দুজন বাচ্চা। তখন আমি অনেক ছোট। কিন্তু এই দৃশ্যের কথা মনে আছে। তাই আমি চেষ্টা করছি এমন কাজ করতে যা দর্শক মন রাখে।

অপূর্ব বলেন, দর্শকদের ভালো কাজ বা মনে রাখার মতো কাজ উপহার দেয়ার এই প্রচেষ্টাটা সবে শুরু, আরও অনেককিছু আমাদের আছে। তাই এই বাজেটটাই ফুলস্টপ এটা ভাবা যাবে না। আগামীতে আমরা আরও বড় পরিসরে আরও ভিন্ন ভিন্ন কাজ দর্শকদের দেখানোর চেষ্টা করছি। আমরা নাটকে এটা করতে পারলে ওটিটির কাজগুলো আরও বড় হবে, ওটিটির কাজ বড় হলে এই প্রভাব আমাদের সিনেমাতে পড়বে। সেখানে আরও ভালো কাজ হবে। সব মাধ্যমে দর্শকরা আমাদের কাজ ভালোবাসেন। তাহলে কেন আমরা এই ‘বিগার স্কেলে’ কাজ করবো না?

নিহত নক্ষত্রের গল্পের চরিত্রের ছবি, মনোযোগী ও ভাবুক মুখাবয়ব. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ কথা হয় পরিচালক জাকারিয়া সৌখিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, গঁদবাধা সংলাপে গল্প বলার বাইরে নিজস্ব স্টাইলে ইমোশন গল্প মুহূর্ত দেখাতে পছন্দ করি। এই ফরম্যাটে কাজ করতে গেলে বড় স্কেল ছাড়া উপায় নাই। এ কারণে প্রতিটি দৃশ্য তুলে আনতে সময় লাগে। কখনও সুনামগঞ্জ, কখনও কক্সবাজার, কখনও বাগেরহাটে গিয়ে কাজ করছি। দর্শকরা বুঝতে পারছে ড্রয়িং রুম থেকে নাটকটাকে আউটডোরে নিয়ে যাওয়া চেষ্টা করছি।

 

বিষয়:অপূর্ব ওটিটি জাকারিয়া সৌখিন নাটক বড়ছেলে সিনেমা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…