দেশ ভাগের দুর্দান্ত গল্পে বছর সাতেক আগে জয়া আহসানকে নিয়ে নির্মাতা আকরাম খান বানিয়েছিলেন চলচ্চিত্র ‘খাঁচা’। সেই সিনেমাটি মুগ্ধ করে সব শ্রেণির দর্শকদের। এবার জয়াকে নিয়ে আকরাম নির্মাণ করলেন মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ‘নকশী কাঁথার জমিন’। যথারীতি এই সিনেমাটি দেখেও মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শক!
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে ‘নকশী কাঁথার জমিন’। মুক্তির পর থেকেই সমালোচকদের প্রশংসা পাচ্ছে সিনেমাটি। অনেকেই বলছেন, সিনেমায় সাধারণত মুক্তিযুদ্ধের যে গয়রহ বয়ান, তা থেকে বেরিয়ে এসে অন্য ধরনের সংকটের গল্প দেখা যাচ্ছে আকরাম খানের এই ছবিতে।
সেই ছবিটি দেখে এবার নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। শনিবার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে ‘নকশী কাঁথার জমিন’ নিয়ে নিজের অনুভূতি লিখে জানান আনু মুহাম্মদ।
তিনি লিখেন,“দুই নারীর গল্প। কৈশোর পার হতে না হতেই ভুলভাবে দুই ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয়ে যায় তাদের। সন্তান বড় হতে হতে আসে ১৯৭১। এক ভাই রাজাকার, অন্য ভাই মুক্তিযোদ্ধা; এক ছেলে রাজাকার অন্য ছেলে মুক্তিযোদ্ধা। বাবা ছেলে, মা ছেলে, স্বামী স্ত্রী অবিরাম দ্বন্দ্ব সংঘাত। সংলাপ খুবই কম। ৭১ এর ঘোর বর্ষণে অনাবিল দৃশ্যাবলীর পাশাপাশি যুদ্ধ এবং নৃশংসতা। অসাধারণ ক্যামেরার কাজ।”
এসময় তিনি আরো লিখেন,“জয়া এবং সেঁওতীসহ সবার অভিনয় এবং দৃশ্যবিন্যাসও দারুণ। চিত্রনাট্যে কি আরও কাজ করার সুযোগ ছিল? কেন এরকম নৃশংস হয়ে গেল ছেলেটা? দুই নারীর দুর্বল জীবনের সবই যায়, শূন্যতার মধ্যে বেঁচে থাকে নকশি কাঁথার জীবন!”
সরকারি অনুদানে নির্মিত এমন ছবি নির্মাণের জন্য আকরাম খানসহ পুরো টিমকেও ধন্যবাদ জানান আনু মুহাম্মদ। সেই পোস্টে গিয়ে নির্মাতা আকরাম খান মন্তব্য করে লিখেন, “আনু ভাই আপনার এই রিভিউ আমার পরম প্রাপ্তি! অসংখ্য ধন্যবাদ।”
শুক্রবার দেশের ৭টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘নকশী কাঁথার জমিন’। এরমধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা সিটি স্টার সিনেপ্লেক্স, সীমান্ত সম্ভার (ঝিগাতলা), সনি স্কয়ার (মিরপুর), স্টার সিনেপ্লক্স বালি আর্কেড(চট্টগ্রাম), লায়ন সিনেমাস (কেরানীগঞ্জ), সিনেস্কোপ (নারায়ণগঞ্জ)।
কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ‘বিধবাদের কথা’ গল্প অবলম্বনে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা তুলে আনা হয়েছে এই সিনেমায়। এতে দুই বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও ফারিহা শামস সেঁওতি।
এ ছাড়াও সিনেমাটিতে দুই ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরেশ যাকের ও রওনক হাসান। তা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ আরও দুই চরিত্রে আছেন দুই ভাই দিব্য জ্যোতি ও সৌম্য জ্যোতি।







