সাফটা চুক্তির নতুন নীতিমালায় গত তিন বছরে বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা পাঠান, জওয়ান, কিসি কি ভাই কিসি কি জান, স্ত্রী ২, মিস্টার এন্ড মিসেস মাহি, অ্যানিমেল এবং ডানকি মুক্তি দিয়েছিল অ্যাকশন কাট এন্টারটেনমেন্টের কর্ণধার ও চিত্রপরিচালক অনন্য মামুন।
এরমধ্যে শাহরুখের ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ সিনেমা দুটি মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করে। এই নির্মাতা চাইছেন, এ বছরের ২৪ ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাওয়া শাহরুখ খানের ‘কিং’ আগামীতে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশেও মুক্তি দিতে।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে দু-দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। যার কারণে ভিসা বন্ধ, আইপিএল এবং টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই বৈরী সম্পর্কের কারণে আদৌ আগামীতে ভারতীয় সিনেমা এদেশে মুক্তি দেয়া সম্ভব হবে কিনা সেটি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে অনন্য মামুন বলেন,“নিয়মনীতির মধ্যে থেকেও বাংলাদেশে আগামীতে শাহরুখ খানের ‘কিং’ মুক্তি দেয়ার জন্য আমি দরকার হলে একাই ফাইট করে যাবো।”
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে শাহরুখের ‘কিং’-এর পোস্টার দিয়ে অনন্য মামুন লিখেছেন,“আমাকে যত গালাগালি করো সমস্যা নাই। দালাল বলো সমস্যা নাই। আমি শাহরুখ খানকে শিল্পী হিসাবে ভালোবাসি।”
এই নির্মাতা তার যুক্তি দিয়ে বলেন, তোমরা যদি ইন্ডিয়ান নায়িকা নিয়ে সিনেমা বানাতে পারো। এবার ঈদের বড় দুই সিনেমায় ইন্ডিয়ান নায়িকা। সেই সিনেমা রিলিজে যদি কোন বাধা না থাকে তাহলে শাহরুখ খানের ‘কিং’ কেন নিয়ম মেনে বাংলাদেশ রিলিজ হবে না, এটার জবাব কে দিবে? আমি ‘কিং’ রিলিজের জন্য ফাইট একাই করে যাবো।
পরে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে আলাপকালে ‘আবার বসন্ত’, ‘নবাব এলএলবি’, ‘দরদ’ সিনেমাগুলোর নির্মাতা অনন্য মামুন বলেন, সব নিয়ম মেনে ২০২৪ সালে ‘পুষ্পা ২’ বাংলাদেশে রিলিজ করতে চেয়েছিলাম। তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে দিনের পর দিন ঘুরেও কোনো রেজাল্ট পাইনি। এবার ‘কিং’ মুক্তি দিতে চাই নিয়ম মেনেই। দরকার হলে আমি নিয়মের মধ্যে থেকে ফাইট করবো, কোর্টে যাবো। তবুও কেন দিবে না?
“তথ্য মন্ত্রণালয়ের কেউ ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ কোনো জবাব দেন না। ‘পুষ্পা ২’ আনার আগে অনুমতি দেয়নি। কোন নীতিতে অনুমতি দেয়নি এই কারণও জানায়নি। এবার আমি ‘কিং’ এদেশে মুক্তির জন্য হান্ড্রেড পারেসেন্ট ফাইট দেব। যারা ইন্ডিয়া থেকে সিনেমা দেন তারা জানে আমি কেমন পরিবেশক। তারা ব্যবসায়ী। তারা জানে এদেশে ব্যবসা রয়েছে। তাই তাদের দিক থেকে এদেশে সিনেমা মুক্তি দিতে কোনো সমস্যা নাই।”
ভারতীয় সিনেমা আমদানির পক্ষে সম্মত হয়ে চলচ্চিত্রের প্রযোজক, প্রেক্ষাগৃহ মালিক, পরিচালক, শিল্পী সমিতি ও কলাকুশলীদের ১৯ সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে এপ্রিলে বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা মুক্তি দেয়ার অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তৎকালীন সরকার। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রতি বছরে ১০টি করে ভারতীয় সিনেমা মুক্তি পাবে বাংলাদেশে।
তবে প্রজ্ঞাপনে বলা ছিল, বাংলাদেশ ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল আজহা ও দুর্গাপূজার সপ্তাহে উপমহাদেশীয় ভাষার কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা যাবে না। অনন্য মামুন জানান, এই নিয়ম এখনও বহাল রয়েছে। সব নিয়ম নীতি অনুসরণ করেই আমি ‘কিং’ মুক্তি দিতে চাই।
এদিকে, দুই ঈদ উৎসব ছাড়া দেশীয় সিনেমার মন্দাবাজারে ভারতীয় সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শক আবার প্রেক্ষাগৃহে ফেরার সম্ভবনা রয়েছে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা হলগুলো, এমনটাও জানান এই পরিবেশক ও পরিচালক।








