শেষটায় মেহেদী হাসান লড়লেন দুর্দান্ত। খেললেন ৪৯ বলে ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। তারপরও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ছুঁতে পারল না প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের দেয়া ২৫২ রানের লক্ষ্য। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মোস্তাফিজ-নাহিদুল-অলকদের দারুণ বোলিংয়ে তাদের থামতে হয় ২৪২ রানে।
সৌম্য-মাহমুদউল্লাহদের গাজী গ্রুপকে ৯ রানে হারিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু করল তামিম-নাঈমদের প্রাইম ব্যাংক।
প্রাইম ব্যাংক-২৫১/৬ (৫০ ওভার), গাজী গ্রুপ-২৪২/৯ (৫০ ওভার)
সৌম্য সরকার যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন জয়ের আশাটা ভালোভাবেই টিকে ছিল। গাজী গ্রুপের এ বাঁহাতি ওপেনার ৪৯ রান করে সাজঘরে ফিরতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। দুই উইকেট হারিয়ে শতরান পাড়ি দেয়া দলটির স্কোর হয়ে যায় ১৩০/৫।
কঠিন অবস্থা থেকেও দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন আরিফুল হক ও আকবর আলী। কিন্তু জুটি খুব লম্বা হয়নি। ৩৫ রানের জুটিটি ভাঙে আরিফুল (২০) সাজঘরে ফিরলে।
অন্যপ্রান্তে লড়ে যান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আকবর। তার ব্যাটেই আশা দেখে গাজী। দারুণ খেলতে থাকা এ ব্যাটসম্যান নিজের ভুলেই হন রানআউট। শর্ট লেগে বল ঠেলে বেরিয়ে যান ক্রিজ থেকে, ফল- ২৮ বলে ৩১ রান করে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
আকবরের পর নাসুম আহমেদ (৪) ও নাহিদ হাসান (২) দ্রুত সাজঘরে ফিরলে গাজীর স্কোর হয়ে যায় আরও বেহাল (২০১/৯)। মেহেদী লড়ে যান একাই। হাসান মাহমুদকে (১০ বলে ৬*) দর্শক বানিয়ে চার-ছক্কায় দলকে নিয়ে যান লক্ষ্যের কাছাকাছি। ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন মেহেদী।
২৫২ রানের মাঝারি লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা গাজীর শুরুটা ভালো হয়নি। ৫ রান করে জাকির হাসান এলবিডব্লিউ হন নাঈম হাসানের ঘূর্ণিতে। দলটি শুরুর চাপ কাটিয়ে ওঠে মুমিনুল হক-সৌম্যর মাঝে ৪৯ রানের জুটিতে। মুমিনুল ২৮ রান করে ফেরেন সাজঘরে।
সৌম্য আউট হন দলকে তিন অঙ্কে নিয়ে। ১০৫ রানের মাথায় এ বাঁহাতি ফেরেন সাজঘরে। খেলেন ৪৯ রানের ইনিংস। ১ রানের জন্য ফিফটি বঞ্চিত হওয়া ওপেনার খেলেন ৫১ বল। মারেন পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা।
ইয়াসির আলি রাব্বি ক্রিজে এসেই আউট। ২ বল খেলে ১ রানে শেষ তার ইনিংস। দায়িত্ব নিয়ে দেখেশুনে খেলতে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও সাজঘরে ফিরলে বিপদ বাড়ে গাজীর। বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক ৬০ বল খেলে করেন ৩২। চার না থাকলেও তার ইনিংসে ছিল একটি ছয়ের মার।
১৩০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর আকবর-মেহেদীরা আশা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার ছন্দপতনে বলের সঙ্গে রানের ব্যবধান বেড়ে যায় অনেক। শেষপর্যন্ত ৫০ ওভার ব্যাটিং করে ৯ উইকেট হারিয়ে গাজী তোলে ২৪২ রান।
প্রাইম ব্যাংকের মোস্তাফিজুর রহমান, অলক কাপালি ও নাহিদুল ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট। নাঈম হাসান ও শরিফুল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা প্রাইম ব্যাংকের শুরুটা ভালো হয়নি। রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন এনামুল হক বিজয়। আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ৪৭ বল খেলে করেন ১৯ রান। রনি তালুকদারের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে তারা। এ ব্যাটসম্যান খেলেন ৭৯ রানের ইনিংস। তারপরও খুব ভালো অবস্থানে যেতে পারছিল না প্রাইম ব্যাংক।
১৫৫ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন নাহিদুল ও নাঈম। সপ্তম উইকেট জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থেকে তারা ৬৫ বলে যোগ করেন ৯৬ রান। নাহিদুল ৪৩ বলে ৫৩ ও নাঈম ৩৬ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
মাহমুদউল্লাহ নেন তিনটি উইকেট। দুটি উইকেট নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের দলে থাকা বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। অপর উইকেটটি নিয়েছেন হাসান মাহমুদ।








