‘আমি ডিসি, ফেনী বলছি। তানিয়া, তোমরা সবাই কেমন আছো?’ ফেনীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার পর এটাই ছিল ফুলগাজী উপজেলার ইউএনও’র সাথে ফেনীর জেলা প্রশাসকের প্রথম কথপোকথন। আকস্মিক বন্যায় জেলার মোবাইল ফোন, ল্যান্ড ফোন ও ইন্টারনেট অকেজো হয়ে পড়ে। তিনদিন পর এ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের ওয়াকিটকির মাধ্যমে এভাবেই ইউএনও তানিয়া ভূঁইয়ার সাথে ডিসি মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তারের মধ্যে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হয়।
২০ আগস্ট দুপুর থেকে ফেনী জেলায় বন্যা শুরু হয়। পরদিন দুপুরে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। জেলার পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলা শুরুতে বন্যা কবলিত হয় এবং পরে ফেনী সদর, ফুলগাজী ও দাগনভূঞাও প্লাবিত হয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
দেখা দেয় নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও সুপেয় পানির অভাব। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থেমে যায় প্রচলিত সব ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
যোগাযোগহীনতার এমন দুর্দিন ফেনীবাসী আগে কল্পনাও করতে পারে নাই। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, জেলার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে ডিসি নিজেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তার ইউএনওদের থেকে।
যোগাযোগের এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে দেশের এ্যামেচার রেডিও অপারেটরগণ। ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় এ্যামেচার রেডিও এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এআরএবি)-এর জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়, রেডিও যন্ত্রপাতি নিয়ে ফেনীতে বন্যার্ত মানুষের পাশে ঝাপিয়ে পড়ার। তাৎক্ষনিকভাবে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশফাক আহমেদ (কলসাইন-S21AU) সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। অন্যান্য সদস্য এবং তাদের আত্নীয়-স্বজনও এগিয়ে আসেন।
এআরএবি’র সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার ভৌমিক S21TV-এর নেতৃত্বে গঠন করা হয় ২৫ জন এ্যামেচারের ‘ইমার্জেন্সি রেডিও কমিউনিকেশন’ টিম। সৈয়দ সামছুল আলম তুহিন (S21ED) ও তানজিম হাসান অনিক (S21DBU)-এর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত করা হয় বিভিন্ন রেডিও যন্ত্রপাতি (রিপিটার, এইচএফ, বেজ স্টেশন, এ্যান্টেনা, ক্যাবল ইত্যাদি)।
ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয় রেডিও বেজ স্টেশন। পাশাপাশি ফেনী অপারেশনের জন্য সংগ্রহ করা হয় জেনারেটর, লাইফ জ্যাকেট, রেইনকোট, টর্চ লাইট, গামবুট, শুকনা খাবার, পানি এবং ওষুধ।
২২ তারিখ দিবাগত রাতে তিনটা গাড়ি নিয়ে ‘টিম এআরএবি’ রওনা হয় ফেনীর উদ্দেশে। যশোর থেকে বেশ কিছু রেডিও যন্ত্রপাতি নিয়ে ছুটে আসা অভিজ্ঞ রেডিও বন্ধু দুরন্ত (S21JDR) পোস্তগোলায় দলের সাথে যুক্ত হয়। তারা যখন ফেনীর ডিসি অফিসে পৌঁছায় তখন ২৩ তারিখ সকাল প্রায় ১০টা।
জেলা প্রশাসককে এ্যামেচারদের রেডিও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে দক্ষতা ও দুর্যোগে ভেঙ্গে পড়া যোগযোগ ব্যবস্থা পুন:স্থাপনে সক্ষমতার কথা জানানো হয়। তিনি জিজ্ঞেস করেন, আপনারা আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সাথে কথা বলিয়ে দিতে পারবেন? এ্যামেচাররা ইতিবাচক সাড়া দিয়ে তাকে আশ্বস্ত করে এবং রেডিও স্টেশন স্থাপনের কাজে লেগে যায়।
ওই দিনই ডিসি অফিসে এবং পাশের একটি উঁচু ভবনে রিপিটার, এইচএফ ও বেজ স্টেশনের এ্যান্টেনা ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু তখনো অপরপ্রান্তে অর্থাৎ ফেনীর বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছে রেডিও সেট পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক এআরএবি’র সদস্যদের সেখানে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তাদের হেলিকপ্টার ওই দিন যেতে পারে নাই।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক S21TV বলেন, আমরা সকল প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকি। রাত ভোর হয়ে সকাল আসে। শেষপর্যন্ত সেনাবাহিনীর স্পিডবোটে করে প্রয়োজনীয় রেডিও যন্ত্রপাতি ও ওয়াকিটকিসহ চারজন এ্যামেচার রেডিও অপারেটর রওনা হয়। বাকিরা কন্ট্রোল রুম থেকে সিমপ্লেক্সে বোটের মুভমেন্ট মনিটর করতে থাকি।
তিনি জানান, কথা ছিল আমাদের দু’জনকে ফুলগাজী এবং অপর দু’জনকে ছাগলনাইয়া উপজেলায় পৌঁছে দেয়া হবে। কিন্তু প্রচণ্ড স্রোতের কারণে
স্পিডবোটটি অনেক কষ্টে ফুলগাজী পৌঁছানোর পর আর ছাগলনাইয়া যেতে পারেনি। অগত্যা চারজন অপারেটরই ফুলগাজী ইউএনও অফিসে গিয়ে রিপোর্ট করে।
S21ED জানান, ফুলগাজীর ইউএনও’র বাসভবনে বেজ রেডিও স্টেশন স্থাপন করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা ফেনীর কন্ট্রোল রুম থেকে তাদের সিগন্যাল রিসিভ করতে সক্ষম হই। এভাবে ২৪ আগস্ট রাতে ফেনীর সাথে ফুলগাজী উপজেলার ফেনীর প্রথম যোগযোগ পুন:স্থাপিত হয়। তৎক্ষণাৎ এ খবর ডিসি মহোদয়কে অবিহিত করি। তিনি ইউএনও’র সাথে কথা বলতে চান। আমরা তাকে একটি ওয়াকিটকি এগিয়ে দিই। অপর প্রান্তের বেজ রেডিওর মাধ্যমে ইথারে ভেসে আসা ফুলগাজীর ইউএনও’র গলা শুনতে পেয়ে ডিসি মহোদয় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
” (ছবি: ফুলগাজী উপজেলার ইউএনও তানিয়া ভূঁইয়া এ্যামেচার রেডিও দিয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলছেন)।
ফেনীর কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালনরত S21JDR বলেন, পরদিন সকালে ডিসির অনুরোধে আমরা আরো দু’জন এ্যামেচারকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে ছাগলনাইয়া উপজেলায় প্রেরণ করি। সেখানে হেলিকপ্টার নামার মতো অবস্থা ছিল না। যন্ত্রপাতি নিয়ে কাদা-পানির মধ্যে অনেকটা লাফিয়ে নামতে হয় তাদের। উপজেলা চত্বরে পৌঁছানোর ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই আমরা রেডিও স্টেশন স্থাপন করি। ডিসির সাথে ছাগলনাইয়ার ইউএনও’র কথা বলিয়ে দিই। একে একে আমরা বিভিন্ন প্রশাসনিক ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসি।
এ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের এসব সাফল্য দেখে উৎসাহিত হয় ডিসি অফিসে উপস্থিত সেনাবাহিনীর ইউনিট। তাদের সিগন্যাল কোরের টেকনিশিয়ান উপস্থিত না থাকায় মিলিটারি পুলিশ (এমপি)-এর রেডিও রিপিটার ঠিক মতো কাজ করছিল না। তাদের অনুরোধে এ্যামেচাররা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ১৫ তলা আবাসিক ভবনের ছাদে স্থাপিত এ্যামেচারদের মূল কন্ট্রোল রুমে তাদের যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা হয়। ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় এ্যামেচাররা রেডিও অপারেটররা মিলিটারি পুলিশের রিপিটারের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়।
চট্টগ্রাম থেকে আসা এ্যামেচার মহিফুল (S21ACM) জানান, তারা পুনরায় অনুরোধ করেন, তাদের রিপিটারটা আমাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করার জন্য।
তিনি বলেন, যদিও আমরা এক রুমে অনেক এ্যামেচার বন্ধু গাদাগাদি করে অবস্থান করছিলাম, তবুও একজন মিলিটারি পুলিশ (এমপি)-কে আমাদের পাশে বসে তাদের রেডিও কন্ট্রোলের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দিই।
রেডিও যোগাযোগে এ্যামেচারদের দক্ষতার খবরে উৎসাহিত হন ফেনীর পুলিশ সুপারও। ইতোমধ্যেই তাদের অফিসের নিচতলায় অবস্থিত নিজস্ব রেডিও স্টেশনটি পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে পুলিশের রেডিও নেটওয়ার্কে সম্প্রতি সংযোজিত উন্নত মানের ডিজিটাল মোবাইল রেডিও (ডিএমআর)-ও আর কাজ করছিল না।
এআরএবি’র মুখপাত্র S21DBU বলেন, ডিএমআরগুলো সচল করতে আমাদের সহযোগিতা চান তারা। চারটি ওয়াকিটকি আমাদের কাছে আনা হয়। কিন্তু আমাদের সাথে ঐসব উন্নত ডিএমআর-এর যন্ত্রাংশ না থাকায় আমরা সেগুলো মেরামত করতে ব্যর্থ হই।
S21RKB জানান, ২৫ আগস্ট ফুলগাজী উপজেলায় স্থাপিত নৌবাহিনীর একটি ইউনিট সেখানকার ইউএনও’র মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। তারা প্রয়োজনীয় রেডিও যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধার কাজে এসেছিল, কিন্তু টিমের সাথে যথাযথ টেকনিশিয়ান ছিল না। ফলে তাদের রেডিও কাজ করছিল না। এ অবস্থায় ফেনী কন্ট্রোলে দায়িত্বরত সিনিয়র এ্যামেচাররা ফুলগাজীতে অবস্থিত আমাকেসহ অপর তিনজন এ্যামেচারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়। ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টায় আমরা নৌবাহিনীর ওই ইউনিটের এইচএফ রেডিও স্টেশন স্থাপন করে দিতে সক্ষম হই।

(ছবি: ফুলগাজীতে নৌবাহিনীর রেডিও যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতা করছে এ্যামেচার রেডিও এ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা)।
S21RAB এবং S21ABH-সহ এআরএবি’র আরো একটি টিম এইচএফ ও বেজ স্টেশনের কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে ২৫ আগস্ট ফেনী পৌঁছায়। তাদের সহযোগিতায় জেলার চারপাশের বন্যাকবলিত পুরো এলাকা সম্পূর্ণরূপে এ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের যোগযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসে। সুদূর আমেরিকাতে বসে এ্যামেচারদের এসব কার্যক্রমে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা প্রদান করেন পুরাতন এ্যামেচার মুনীম হোসেন রানা (S21R)।
যোগযোগ পুন:স্থাপন পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা:
ফেনীতে দায়িত্ব পালনরত এআরএবি’র সদস্যরা জানান, এ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের মূল কাজ হলো যোগাযোগ স্থাপন ও পরিচালনা। ত্রাণ বিতরণ বা উদ্ধার কাজে আমরা পারদর্শী নই। কোন ত্রাণ সামগ্রী নিয়েও আমরা যাইনি। কিন্তু ত্রাণ বিতরণ এবং উদ্ধার কাজে সহযোগিতা ও সমন্বয় সাধনে আমাদের ভূমিকা রাখার প্রয়োজন দেখা দেয়। ডিসি মহোদয়ের পরামর্শে আমরা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, রেডক্রিসেন্ট, ফায়ার ব্রিগেড, স্কাউট, আলমারকাজুল, মেডিক্যাল টিম ও অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন রচনা করি।
তারা আরও বলেন, ত্রাণ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমগুলো কোথায় কখন, কি কি জিনিস নিয়ে যাচ্ছে তা আগে ভাগেই গন্তব্যস্থলের কর্মকর্তাদের অবহিত করি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাই। পাশাপাশি ডিসি মহোদয়ের রুমে বসে ৯৯৯ সহ বিভিন্ন মাধ্যমে আসা সংবাদ সংগ্রহ করি এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট টিমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা রেডিও মারফত জানিয়ে দিই।
ঢাকার বেজ স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারীদের একজন S21FNM। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত আমাদের এ্যামেচার বন্ধুরা ফোন এবং ইন্টারনেট মারফত দেশ বিদেশ থেকে অসংখ্য কল ও সাহায্যের অনুরোধ পায়। তারা তা ঢাকা কন্ট্রোলকে জানিয়ে দেয়। আমরা সে সব তথ্য পৌঁছে দিই ফেনী কন্ট্রোলে।
এআরএবি’র এক্সিকিউটিভ কমিটির একমাত্র নারী সদস্য S21JRJ জানান, আমরা সিমপ্লেক্স এবং রিপিটার উভয় ফ্রিকোয়েন্সিতেই কন্ট্রোল রুম এবং ফিল্ডের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রক্ষা করতে থাকি। স্কাউটের বন্ধুরা বেজ স্টেশন স্থাপন করেছিল আমাদেরও আগে। কিন্তু তারা মূলত: স্টেশন টু স্টেশন কথা বলতে পারছিল। এ কারণে তাদের একটা বার্তা একসাথে সবগুলো স্টেশনে পৌঁছাচ্ছিল না। আমরা তাদেরকে আমাদের রিপিটারের এ্যাকসেস দিই। ফলে তারা একসাথে সকল স্টেশনে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা অর্জন করে। এতে করে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজ সমন্বয় করা তাদের পক্ষে অনেক সহজ হয়ে আসে।
তিনি জানান, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয়ে সহযোগিতার পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির লাস উদ্ধার ও সৎকার, সংকটাপন্ন গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতাল ও মেডিকেল ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়া এবং অসুস্থ শিশু, বৃদ্ধ এবং নারীদের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। জরুরি ওষুধ ফুরিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে হাপানি রোগির ইনহেলার, হার্টের রোগির ওষুধ, প্রেসারের ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ ইত্যাদি জেলা সদর থেকে সংগ্রহ করে সমন্বয়কারী টিমের মাধ্যমে ঠিকানামতো পৌঁছে দেয়া হয়।
এআরএবি’র সাধারণ সম্পাদক S21TV অতৃপ্তির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, আমাদের অতিরিক্ত রেডিও বা ওয়াকিটকি না থাকায় আমরা ডিসি, ইউএনও বা অন্যান্য সমন্বয়কারী কর্মকর্তা/ সংস্থাকে আমাদের রেডিও ধার দিতে পারি নাই। সেটা পারলে আরো ভাল হতো। এমন কি বেতার যন্ত্রাংশের স্বল্পতার কারণে আমরা অপর উপজেলাগুলোকে সংযুক্ত করতে পারি নাই।
এ্যামেচার রেডিও এবং রেগুলেটরি সংস্থা:
অত্যন্ত মানবিক এবং বিজ্ঞানমনষ্ক এক শখের নাম হলো এ্যামেচার রেডিও বা হ্যাম রেডিও।
মূলত: প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে ভেঙ্গে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাকে রেডিও যন্ত্রপাতি ও বেতার তরঙ্গের সাহায্যে পুন:স্থাপনের মাধ্যমে দুর্গত মানুষকে সাহায্য করাই এর মূল উদ্দেশ্য। স্বেচ্ছাসেবামূলক ও সৌখিন এ কাজটি যারা করেন তাদেরকে বলা হয় এ্যামেচার রেডিও অপারেটর।
সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩০ লাখ এরকম এ্যামেচার রেডিও অপারেটর আছেন। তারা বেতার তরঙ্গ, রেডিও যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা ও যোগাযোগ চর্চা করেন। প্রত্যেককে স্ব স্ব দেশের সরকার থেকে দেয়া হয় স্বতন্ত্র কল সাইন। আমাদের দেশে এ্যামেচারের সংখ্যা প্রায় হাজার খানেক। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) একটি পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে এ্যামেচার রেডিও ব্যবহারের অনুমতি বা লাইসেন্স দিয়ে থাকে। লাইসেন্স পাবার পর ওয়াকিটকিসহ অন্যান্য রেডিও যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যবহার ও গবেষণার দুর্লভ সুযোগটি পাওয়া যায়।
ফেনীতে বন্যার শুরুতেই বিটিআরসি’র স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার ও ডিজির সাথে যোগাযোগ করা হয়। তারা সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ফেনীতে পৌঁছানোর পর তারা এআরএবিকে বিভিন্ন প্রকার রেডিও যন্ত্রপাতি ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন।
পরবর্তী প্রস্তুতি:
বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ প্রবন অঞ্চল। অনাগত সকল প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিবেচনায় রেখে আমাদের যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে। ফেনীর ভেঙ্গে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুন:স্থাপনে এ্যামেচার রেডিও আজ একটি পরীক্ষিত নাম।
এ্যামেচার রেডিও নিয়ে গবেষণা ও অনুশীলন কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে এবং নিয়মের বেড়াজাল শিথিল করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে মেধাবী ও বিজ্ঞানমনস্ক যুবসমাজকে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ্যামেচার রেডিওকে মজবুত ভিত্তি দেয়ার এখনই সময়।








