এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ (২ জুন) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, অ্যালফাবেটের প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হবে। প্রাপ্ত অর্থ ডেটা সেন্টার নির্মাণ, কম্পিউটিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এআই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন করপোরেট খাতে বিনিয়োগে ব্যয় করা হবে।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যক্তি ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা ও সমাধানের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান অবকাঠামো সেই চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ায় সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের কাছে।
দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম খ্যাতিমান বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের এই অংশগ্রহণ অ্যালফাবেটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রিক পরিকল্পনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চ্যাটবট, তথ্য অনুসন্ধান, কনটেন্ট তৈরি, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই জানান, চলতি বছরে মূলধনি ব্যয় বাবদ ১৮০ থেকে ১৯০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এর বড় একটি অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। শুধু গুগল নয়, বিশ্বের প্রায় সব বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।
২০২৬ সালে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত মূলধন ব্যয় করতে পারে। এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ সংগ্রহ এবং ক্লাউড অবকাঠামো সম্প্রসারণে। অ্যালফাবেট জানিয়েছে, শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান বজায় রেখেই তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। নতুন অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও সেই কৌশলের অংশ।








