ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতের অন্ধকারে জামাল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর বাড়ি অবৈধভাবে দখল ও হামলা ও লুটপাট ও তার ভাড়াটিয়াদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী জামাল হোসেন সদর উপজেলার উত্তর সুহিলপুর গ্রামের হাজী আব্দুল হাফিজের বড় ছেলে এবং শহরের মসজিদ রোডের তন্নী অফসেট প্রেসের স্বত্বাধিকারী।
শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার উত্তর সুহিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও একাধিকবার এই অভিযুক্তরা হামলা ও দখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করে এই ভুক্তভোগী। পরে গতকাল শনিবার দুপুরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মিমাংসা করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, হেলাল মিয়া (৪২), মো. তাজুল ইসলাম (৫০), সাহেদ মিয়া (২৫), নাছির মিয়া (২৮), আশাদ মিয়া (৩০), ফজু মিয়া (৫৫) তারা সবাই একই গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে। এছাড়াও এলাকার আরও কিছু অসাধু লোকজন তাদের সঙ্গে জড়িত আছেন।
মীমাংসাকারী সেনাবাহিনীর ৩৩ বীরের ওয়ারেন্ট অফিসার দিদারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে এবং কথা বলে আগামী সাত দিনের মধ্যে ভাঙ্গা ঘরগুলো মেরামত করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে মৃত চাঁন মিয়ার ছেলেদের নির্দেশ দেন। অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তাদেরকে হুশিয়ারি দেন। একইসঙ্গে আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে যেন নতুন করে কোন সংঘাত সৃষ্টি না হয় এ ব্যাপারেও হুঁশিয়ার করে দেন। সেনাবাহিনীর এই রায়ে এলাকার উপস্থিত জনগণ সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এ প্রসঙ্গে ওই গ্রামের বাসিন্দা সালিশকারী মাতবর জালাল মিয়া বলেন, ১৬ বছর আগে এ জমিটি চাঁন মিয়ার কাছ থেকে কিনে নেন একই এলাকার বাসিন্দা জামাল মিয়া। জামাল মিয়ার কাছে জমির সকল কাগজপত্র থাকার সত্ত্বেও অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা করে আসছে এলাকার কয়েকজন দুষ্কৃতকারী। আমরা বহুবার অভিযুক্তদের বুঝানোর চেষ্টা করছি তারপরও তারা মানতে চাই না। ভয়-ভীতি দেখিয়ে জামাল মিয়ার সঙ্গে তারা অন্যায় করছে। আমরা চাই জামাল মিয়া যেন ন্যায় বিচার পাই।
নির্যাতন ও মারধরের শিকার বাড়িটির একজন ভাড়াটিয়া ভুক্তভোগী বাদশা মিয়া বলেন, গত ৫ আগস্ট রাতে আমাদেরকে বল প্রয়োগ করে ঘর থেকে বের করে দেয় অভিযুক্তরা। পরের দিন তারা বাড়িতে থাকা চারটি ঘর ভাংচুর করে নিচে ফেলে দেয়। পরে বাড়িটিতে তারা নিজেরা ঘর তুলার চেষ্টা করে। আমরা বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ি পর্দা টানিয়ে শিশু বাচ্চাদেরকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত্রী যাপন করছি। আমরা এর বিচার চাই।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী জামাল হোসেন বলেন, এতদিন তারা কোন কিছুই করার সাহস পায়নি। দেশের এই পরিস্থিতি দেখে আমার অবর্তমানে তারা আমার বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। আমার ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তবে এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পুরো ঘটনা শুনে সুষ্ঠু সমাধান দিয়ে গেছেন। তিনি সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী জামাল মিয়ার পরিবারের লোকজন ও এলাকার একাধিক ব্যাক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জামাল হোসেন একই গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার কাছ থেকে ১৮ শতাংশ ভিটি বাড়ি ক্রয় করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় জায়গার চৌহদ্দি ঠিক আছে। তবে দলিলে ভুল দাগ নম্বরে ভিটি বাড়িটি রেজিস্ট্রি হয়। পরে ২০২৩ সালে বিষয়টি সামনে এলে আদালতে সংশোধনীর জন্য একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি জানার পর থেকেই মৃত চাঁন মিয়ার ছয় ছেলে জায়গাটি দখলে নেওয়ার জন্য পাঁয়তারা শুরু করেন। এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন জামাল হোসেন। তার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতের চুড়ান্ত রায় না হওয়ার আগ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে স্ব স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেয় আদালত।








