কোনো পুরুষ যদি বয়ঃসন্ধিকালে উপনীত হওয়ার পর লিঙ্গান্তরিত কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারী হন, সেক্ষেত্রে নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। আইসিসি মেয়েদের খেলার ‘মর্যাদা, নিরাপত্তা, ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তি’র কথা বিবেচনা করে এই নিয়ম চালু করেছে, বোর্ড সভার পর মঙ্গলবার সেটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি।
গত সেপ্টেম্বরে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় কানাডার লিঙ্গান্তরিত খেলোয়াড় ড্যানিয়েল ম্যাকগাহের। কয়েকমাস যেতে না যেতেই আইসিসির নতুন নিয়মের প্রেক্ষিতে নিষিদ্ধ হচ্ছেন ২৯ বর্ষী উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার এমন নিয়মে মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ম্যাকগাহে। কানাডিয়ান ক্রিকেটার লিখেছেন, ‘আইসিসির সিদ্ধান্তের পর খুব ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমাকে বলতে হচ্ছে, আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ। আমি আইসিসির সিদ্ধান্তের বিষয়ে যদি আমার মতামত রাখিও, সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক।’
‘আজ লাখ লাখ লিঙ্গান্তরিত নারীর কাছে যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি দেয়া হল, সেটি হচ্ছে- আমরা আর মেয়েদের ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্ত নই। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের খেলাধুলায় সমতার জন্য লড়াই করা বন্ধ করব না। সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার অধিকার আমাদের প্রাপ্য। খেলাধুলার অখণ্ডতা বা নিরাপত্তার জন্য আমরা হুমকি নই।’
ম্যাকগাহে কানাডার হয়ে এপর্যন্ত ছয়টি টি-টুয়েন্টি খেলেছেন। ১৯.৬৬ গড়ে ১১৮ রান করেছেন, স্ট্রাইকরেট ৯৫.৯৩।
লিঙ্গান্তরিতদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না খেলানোর নিয়ম চালু হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজ নিজ দেশের আইন অনুযায়ী বোর্ডগুলো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। মঙ্গলবার আহমেদাবাদে আইসিসির বোর্ড সভার পর এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে নিয়মগুলো পর্যালোচনা করা হবে।
আইসিসির নতুন নিয়মের বিষয়ে প্রধান নির্বাহী জিওফ অ্যালার্ডিস বলেছেন, ‘বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত এবং পর্যালোচনার সময় বিকশিত মূল নীতিগুলোর সাথে সংযুক্ত করে লিঙ্গ যোগ্যতা প্রবিধানের নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সেটি বিস্তৃত পরামর্শ প্রক্রিয়ার ফলে সম্ভব হয়েছে। খেলা হিসেবে এটি আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের অগ্রাধিকার ছিল খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারীদের অখণ্ডতা।’








