আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি কর্মীকে জাপানে পাঠাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার ১১ জানুয়ারি ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি আকিয়ে আবে এবং জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, জাপানে ক্রমবর্ধমান কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে নার্স ও কেয়ারগিভার পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার হাজার হাজার নার্স ও পরিচর্যাকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সংখ্যা আরও বাড়াতে আকিয়ে আবে ও জাপানি প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা, এবং জাপানে পরিচর্যাকারী ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। জাপানে দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এসব খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় জাপানের শীর্ষ বায়োফুয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউগ্লেনা-র প্রতিষ্ঠাতা মিৎসুরু ইজুমো সামাজিক ব্যবসাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন শেষ হলে তিনি তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে আগের পেশাগত জীবনে ফিরে যাবেন বলেও জানান।
তিনি পুনরায় স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া বা কোনো সরকারি কিংবা রাষ্ট্রীয় পদে থাকার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। বরং তিনি মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, এবং তাঁর প্রস্তাবিত ‘থ্রি জিরো’ ধারণা—শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ ও শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ—বাস্তবায়নে কাজ করতে চান।







